ইরান যুদ্ধ যত দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ততই এর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এই সম্ভাবনাটি মেনে নেওয়া বেশ কঠিন। বিশেষ করে যখন যুদ্ধে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। তাছাড়া যুদ্ধ মানেই বীভৎসতা, নিষ্ঠুরতা এবং গভীর যন্ত্রণা। এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক আঘাত বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে-যাদের অনেকের পরিস্থিতি এখন চরম বিপর্যয়কর।
এতকিছুর পরও এই যুদ্ধের ধ্বংসলীলার মধ্যদিয়ে পৃথিবীতে কিছু মৌলিক ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আসতে পারে। ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্ব এখন তার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও বহুমুখী করতে বাধ্য হবে। এটি নিশ্চিত করবে, মাত্র ২৩ মাইল প্রশস্ত একটি জলপথ (হরমুজ প্রণালী) যেন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য কোনোভাবেই ‘চোকপয়েন্ট’ বা গলার কাঁটা হয়ে না দাঁড়ায়। পাশাপাশি ইরান যেন এককভাবে বিশ্ব তেলের বাজার বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ না পায়।
প্রকৃতপক্ষে, অর্থনীতির পতন যত তীব্র হবে, এই প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলো দ্রুত কার্যকর করার তাগিদও ততটাই বাড়বে।
এই যুদ্ধের ফলে পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক আরও সংকুচিত হতে পারে কিংবা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। যার ফলে তেল ও গ্যাসের দাম কমে আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হতে পারে, যা হরমুজ প্রণালীকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলবে। এছাড়া, বিশ্ব হয়তো নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে তার রূপান্তরকে আরও ত্বরান্বিত করবে। যা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর আমাদের নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনবে।
তবে এই যুদ্ধ শেষ করার জন্য কোনো ধরনের সমঝোতা আদৌ সম্ভব কি না-তা এখনো স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যতটা আশা করছে, ইরান হয়তো ততটা দুর্বল নাও হতে পারে। দেশটি হয়তো সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন অব্যাহত রাখবে এবং তার শত্রুদের জীবন ও জীবিকার জন্য হুমকি হয়েই থাকবে।
