ভারতের ওড়িশার নয়াগড় জেলায় মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে এক শিউরে ওঠা অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলো এক কিশোর। পাথরের ফাটল থেকে মধু বের করতে গিয়ে দীর্ঘ আট ঘণ্টা যমদূত বিষধর সাপের সঙ্গে একই সংকীর্ণ স্থানে আটকে থেকে মৃত্যুর প্রহর গুনতে হলো তাকে।
বুধবার নয়াগড় জেলার কানিপাড়া জঙ্গলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় স্তম্ভিত স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিবা প্রধান নামে ওই কিশোর তার চাচার সঙ্গে জঙ্গলে মধু সংগ্রহ করতে গিয়েছিল। একটি পাথরের ফাটলের গভীরে মৌচাক দেখতে পেয়ে মধু বের করার নেশায় মাথা ঢুকিয়ে দেয় শিবা। কিন্তু মৌচাকটি অনেক ভেতরে থাকায় সে আরও ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করতেই তার মাথা পাথরের খাঁজে আটকে যায়। শত চেষ্টা করেও সে মাথা বের করতে ব্যর্থ হয়। তার চাচা প্রথমে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে বিফল হওয়ার পর পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীদের খবর দেন। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওডাগাঁও থানা ও নয়াগড় ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়।
উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায় পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। শিবার মাথা যেখানে আটকে ছিল, ঠিক তার সামনেই একটি বড় বিষধর সাপ অবস্থান করছিল। সাপের উপস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, কারণ সামান্য ভুল পদক্ষেপে সাপের কামড়ে শিবার মৃত্যু হতে পারত। পুলিশ ও দমকলের দুটি দল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সাপটিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং পাথর কেটে দীর্ঘ আট ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর শিবাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
উদ্ধারের পর দেখা যায়, অলৌকিকভাবে শিবার শরীরে বড় ধরনের কোনো আঘাত লাগেনি। তবে আট ঘণ্টা ধরে সাক্ষাৎ মৃত্যুর সামনে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকায় সে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল। উদ্ধারের পর তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বনকর্মীরা জানিয়েছেন, বন্য পরিবেশে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে এ ধরনের ঝুঁকি না নেওয়াই শ্রেয়। বর্তমানে শিবা বিপদমুক্ত থাকলেও তার এই দুঃস্বপ্নঘেরা অভিজ্ঞতার কথা শুনে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
