বিদেশি হামলায় কিম ‘নিহত হলেই’ পারমাণু হামলা চালাবে উত্তর কোরিয়া

- Advertisements -

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনকে কোনো বিদেশি শক্তি হত্যা করলে বা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাল্টা পারমাণবিক হামলা চালানো হবে— এমন বিধান যুক্ত করে সংবিধান সংশোধন করেছে পিয়ংইয়ং। সম্প্রতি ইরান–ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিজেদের শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএস) দেশটির সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানায়। সংস্থাটি জানায়, পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত ১৫তম সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলির প্রথম অধিবেশনে সাংবিধানিক এই সংশোধনী গৃহীত হয়।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কিম জং উন যদি কোনো কারণে কমান্ড দেওয়ার অবস্থায় না থাকেন বা নিহত হন, তাহলে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে উঠবে।

Advertisements

পরমাণু নীতি সংক্রান্ত আইনের সংশোধিত তৃতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, শত্রুপক্ষের হামলায় রাষ্ট্রের পারমাণবিক বাহিনীর কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়লে তাৎক্ষণিক ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পারমাণবিক হামলা চালানো হবে। আগে এটি অনানুষ্ঠানিক নীতি হিসেবে থাকলেও এখন তা দেশটির সংবিধানে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার ধরন পর্যবেক্ষণ করেই উত্তর কোরিয়া এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন উপদেষ্টা নিহত হন।

সিউলের কুকমিন বিশ্ববিদ্যালয়–এর অধ্যাপক আন্দ্রেই ল্যাঙ্কভ বলেন, ইরানের ঘটনাটি উত্তর কোরিয়ার জন্য একটি সতর্কবার্তা ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিখুঁত ‘ডিক্যাপিটেশন অ্যাটাক’ বা শীর্ষ নেতৃত্ব নির্মূলের সক্ষমতা দেখে কিম জং উন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

Advertisements

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের তুলনায় উত্তর কোরিয়ায় এ ধরনের হামলা চালানো অনেক বেশি কঠিন। দেশটির সীমান্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতা পরিচালনা প্রায় অসম্ভব। এছাড়া সীমিত প্রযুক্তি ও নিয়ন্ত্রিত ইন্টারনেট ব্যবস্থার কারণে ইরানের মতো সিসিটিভি হ্যাকিং কৌশলও সেখানে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। যদিও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে কিমের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে পিয়ংইয়ংয়ের।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে নতুন ধরনের দূরপাল্লার কামান মোতায়েনের পরিকল্পনাও করছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, কিম জং উন সম্প্রতি একটি অস্ত্র কারখানা পরিদর্শন করেছেন, যেখানে ১৫৫ মিলিমিটারের নতুন সেলফ-প্রোপেলড গান-হাউইটজার তৈরি হচ্ছে। প্রায় ৩৭ মাইল পাল্লার এসব কামান সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে সক্ষম বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/uiyz
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন