সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ এনেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। ‘৮৬ ৪৭’ লেখা একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ঘিরে কোমির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলা হয়েছে।
নর্থ ক্যারোলাইনার একটি গ্র্যান্ড জুরি এই অভিযোগ এনেছে। গতকাল মঙ্গলবার কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার সূত্রপাত গত বছরের মে মাসে কোমির এক ইনস্টাগ্রাম পোস্ট থেকে। পোস্টটিতে ঝিনুক দিয়ে “৮৬ ৪৭” সংখ্যা লেখা ছিল। ট্রাম্পের দাবি, ৮৬ ৪৭-এর অর্থ ছিল গুপ্তহত্যা। ‘৮৬’ হত্যার ইঙ্গিত এবং ‘৪৭’ তার প্রেসিডেন্ট নম্বরকে বোঝায়।
ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ জানান, কোমির বিরুদ্ধে দুটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্টের জীবননাশ ও শারীরিক ক্ষতির ইচ্ছাকৃত হুমকি দেওয়া। অন্যটি হলো আন্তঃরাজ্য হুমকি দেওয়া। প্রতিটি অভিযোগের সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর করে কারাদণ্ড।
ব্লাঞ্চ বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জীবনকে হুমকি দেওয়া এই বিচার বিভাগ কখনোই সহ্য করবে না।’
ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ‘৮৬’ সংখ্যাটি হত্যার অপভাষা এবং ‘৪৭’ দিয়ে বোঝানো হয়েছে তিনি ৪৭তম প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘তিনি (কোমি) ঠিকই জানতেন এর মানে কী। এর মানে ছিল গুপ্তহত্যা।’
অন্যদিকে, কোমি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। ভিডিও বিবৃতিতে বলেন, ‘এক বছর আগে নর্থ ক্যারোলিনার একটি সৈকতে তোলা ঝিনুকের ছবি নিয়ে এবারও অভিযোগ তোলা হয়েছে। আমি আবারও নিজেজে নির্দোষ দাবি করছি। আমি এ বিষয়ে ভীত নই এবং আমি স্বাধীন ফেডারেল বিচার বিভাগের ওপর আস্থা রাখি।’
তিনি জানান, পোস্টটি তিনি পরে সরিয়ে নেন এবং বুঝতে পারেননি যে কিছু লোক এই সংখ্যাগুলোকে সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত করে। ‘এটা আমার মাথায় আসেনি, কিন্তু আমি যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিরোধী।’
অভিযোগটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ডিক ডারবিন অভিযোগটিকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘তুচ্ছ প্রতিশোধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এটি প্রতিশোধপরায়ণ প্রেসিডেন্টের পক্ষে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত বিচার বিভাগের আরেকটি আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ।
প্রসঙ্গত, কোমির বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয়বারের মতো মামলা করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে কংগ্রেসে মিথ্যা বিবৃতি দেওয়া ও কংগ্রেসের কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তিনি অভিযুক্ত হয়েছিলেন। তবে এক ফেডারেল বিচারক সেই মামলা খারিজ করে দেন।
