পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঘরমুখী যাত্রীদের নির্বিঘ্নে বাড়ি পৌঁছানো এবং যানজট নিরসনে দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা। চোখের ক্লান্তি আর আষাঢ়ের বৃষ্টি উপেক্ষা করে মহাসড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন তারা।
পবিত্র ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে প্রতিবছরের মতো এবারও লাখো মানুষ বাড়ি ফিরছেন। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে মহাসড়কে যাতে কোনো ধরনের যানজট বা অপ্রীতিকর সড়ক দুর্ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে মাঠে নেমেছেন সামাজিক আন্দোলন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) দাউদকান্দি উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ ও ‘কুমিল্লা জেলা রোভারের নেতৃত্বে’ কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের’ রোভার স্কাউটস সদস্যরা ।
সরেজমিনে দেখা যায়, তীব্র গরম এবং হঠাৎ নামা বৃষ্টি উপেক্ষা করে দাউদকান্দির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করছেন। চালকদের ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলতে এবং যাত্রীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারে প্রতিনিয়ত সচেতন করছেন তারা।
এই মানবিক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সভাপতি আলমগীর হোসেন।
তিনি জানান, “ঈদযাত্রায় প্রতিবছরই মহাসড়কে বাড়তি চাপ থাকে। অসচেতনতার কারণে যেন কোনো প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা না ঘটে এবং যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও হাসিমুখে পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারেন, সেজন্যই আমাদের এই পথচারী ও চালক সচেতনতামূলক কার্যক্রম। যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ ঘরে ফিরবেন, আমাদের এই স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
যানজট নিরসন ও যাত্রী সুরক্ষায় মাঠে থেকে দিনরাত কাজ করছেন কুমিল্লা মুক্ত স্কাউটস গ্রুপের রোভার মেট আনিছুর রহমান জয়। তিনি বলেন, “চোখে ক্লান্তি থাকলেও সাধারণ মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি দেখলে সব কষ্ট দূর হয়ে যায়। বৃষ্টি বা রোদের তোয়াক্কা না করে আমরা রোভার স্কাউটের সদস্যরা মহাসড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় হাইওয়ে পুলিশ ও প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছি।”
স্বেচ্ছাসেবীদের এমন ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন মহাসড়কে চলাচলকারী চালক, যাত্রী ও সাধারণ পথচারীরা। তারা জানান, প্রশাসনের পাশাপাশি এই তরুণ ও সামাজিক কর্মীদের সক্রিয় ভূমিকার কারণে এবারের ঈদযাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ হচ্ছে।
