ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বরগুনার জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসানের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তার ওই বক্তব্যের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ ও তার কুশপুতুল দাহ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা।
এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক ও ‘২৪ এর গণঅভ্যুথানে ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার সানজিদা আহমেদ তন্বী। প্রতিবাদ কর্মসূচির পর থেকে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানির মুখে পড়ছেন। তন্বীর অভিযোগ, ছাত্রশিবিরের কর্মীরা তাকে লক্ষ্য করে এ হয়রানি চালাচ্ছেন।
তন্বী বলছেন, শিবিরের বিপক্ষে ‘রা’ করে পার পেয়েছেন এমন মেয়ে মনে হয় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় তথা সারা দেশেই নাই। তিনি আরও বলছেন, ছাত্রশিবির মানুষের ব্যক্তিগত জীবনাচরণে নগ্ন হস্তক্ষেপ করে।
এক ফেসবুক পোস্টে তন্বী বলেন, বরগুনার এক জামায়াত নেতা সরাসরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসুকে বেশ্যাখানা বলছিলেন।আমার মনে হয়েছে আমার প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে এটি অগ্রহণযোগ্য ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য। তার প্রতিবাদেই নেমেছিলাম আমি বা আমার মতো অনেকে। এটা তাদের নির্বাচন ইডিওলোজি বা অন্য কোনো প্রেক্ষাপটে না। জাস্ট আমাদের ইনস্টিটিউট নিয়ে নোংরা মন্তব্য করায়। পরে সে এই বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে ভিডিও বার্তাও দিলো।
তন্বীর প্রতিবাদ শিবির কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না জানিয়ে এই নেত্রী বলছেন, কিন্তু বিষয়টা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না আমার বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের শিবিরকর্মী বা শিবিরমনারা। তার কিছু ডেমো তো স্ক্রিনশটসহ দিলামই! শিবিরের বিপক্ষে ‘রা’ করে পার পেয়েছেন এমন মেয়ে মনে হয় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় তথা সারা দেশেই নাই! সেই হিসেবে আমারটা মনে হয় অনেক কম। তাও গতকাল থেকে মিথ্যা, গল্প মিশিয়ে আমার যতরকমভাবে চরিত্রহনন করা যায়; করেছে, করে যাচ্ছে। জেলা পর্যায়েরগুলা ডিরেক্ট বললেও শহুরে, ভার্সিটি পড়ুয়া সিম্প্যাথাইজাররা বলছেন একটু ভিন্নভাবে।
ডাকসু এই নেত্রী আরো বলেন, কোনো সন্দেহ নেই শিবির একসময় মজলুম ছিল। তাদের প্রতি প্রচুর নির্যাতন হয়েছে। কিন্তু সুযোগ পেয়ে, পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূলে পেয়ে এরাও কি বাড়াবাড়ি করছে না! মানুষ একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করলে, ভিন্ন বক্তব্য দিলেই তো তেড়ে আসে! মানুষের ব্যক্তিগত জীবনাচরণে নগ্ন হস্তক্ষেপ করে!
সবশেষে তন্বী বলেন, যাই হোক, আপনারা মনের জ্বালা মেটাতে গালি দেন, তাও শান্তিতে থাকেন। এসব গালিতে খুব একটা কিছু হয় না আমার, বেশ শক্ত ধাচের মানুষ আমি। ছাত্রলীগও আমার আহতের ছবি নিয়ে কম নোংরামি করেনি। দুই গোষ্ঠীকে এক পাল্লায় মাপা লাগলো আরকি।
