গরমকালে রোদ মানেই ঘামঝরা দিন, সাগরপাড়ে ভিড়, আর সঙ্গে সানস্ক্রিনের টিউব। তবে সানস্ক্রিন নিয়েও আছে অজস্র ভুল ধারণা। অনেক সময় এমন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন তথাকথিত ওয়েলনেস ইনফ্লুয়েন্সাররা, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরাও দ্বিধায় রাখেন ব্যবহারকারীদের।
তাহলে আসলেই সানস্ক্রিন কতটা কাজ করে? সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর (এসপিএফ) মানে কী? মেঘলা দিনে রোদে পোড়া হয় না—এটা কি সত্যি? চলুন, বিজ্ঞানের গবেষণায় ভর করে জেনে নেওয়া যাক এসব তথ্য।
এসপিএফ-৫০ মানে ৫০ গুন বেশি সময় নয় অনেকে মনে করেন এসপিএফ-৫০ মানে, আপনি সানস্ক্রিন মেখে রোদে ৫০ গুণ বেশি সময় থাকতে পারবেন। আসলে তা নয়। এসপিএফ কেবল বলে দেয়, রোদে পোড়ার জন্য দায়ী ইউভি রশ্মির কত শতাংশ আপনার ত্বকে পৌঁছাবে। যেমন, এসপিএফ-২৫ আটকায় ৯৬%, আর এসপিএফ-৫০ আটকায় ৯৮% ক্ষতিকর রশ্মি।
তবে গবেষণাগারে যে ঘনত্বে (২ মি.গ্রা./সেমি²) সানস্ক্রিন ব্যবহার করা হয়, বাস্তবে মানুষ তা অনেক কম মাখেন। তাই সঠিক সুরক্ষা পেতে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর এবং সাঁতার বা ঘেমে যাওয়ার পর আবার সানস্ক্রিন লাগানো জরুরি।
ইউভিএ ও ইউভিবি দুটোই ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় অনেকে ধারণা করেন, ইউভিএ শুধু ত্বকের বয়স বাড়িয়ে দেয় আর ইউভিবি ক্যান্সারের জন্য দায়ী। আসলে দুটোই ক্ষতিকর।ইউভিএ ত্বকের গভীরে ঢুকে কালো দাগ বা মেলাজমা বাড়ায়, আবার ইউভিবি পোড়ায় ত্বকের বাইরের স্তর। দুটোই দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। তাই ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন সবচেয়ে নিরাপদ।
মেঘলা দিনেও রোদে পোড়া সম্ভব মেঘ আকাশ ঢেকেও দিতে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে রোদ প্রতিফলিতও হতে পারে। পাতলা মেঘ ইউভি রশ্মিকে আটকে রাখতে পারে না।
ফলে মেঘলা দিনে সানস্ক্রিন ছাড়া বের হলে রোদে পোড়া থেকে রেহাই নেই।
শুধু ছাতা নয়, ঘন ছায়া চাই সমুদ্রসৈকতের ছাতা বা বারান্দার ছাদ যতটা নিরাপদ মনে হয়, আসলে তা নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, কেবল ছাতার নিচে বসে থাকা ৭৮ শতাংশ মানুষই রোদে আক্রান্ত হন। অন্যদিকে ঘন পাতাওয়ালা গাছ প্রায় এসপিএফ-২০ এর সমান সুরক্ষা দিতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে—বালু, পানি, কংক্রিট কিংবা কাঁচ থেকেও রোদ প্রতিফলিত হয়ে ত্বককে আক্রান্ত করতে পারে।
সারাবছর সানস্ক্রিন? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইউভি সূচক যদি ২-এর নিচে থাকে, তাহলে সানস্ক্রিনের দরকার নেই। যেমন যুক্তরাজ্যে অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত সূচক সাধারণত ৩-এর নিচে থাকে। তবে শীতে যদি বরফে ঢাকা এলাকায় স্কি করতে যান, তখন ইউভি রশ্মি প্রতিফলিত হয়ে ঝুঁকি বাড়ে।
আরো কিছু ভুল জেনে নিন
সানস্ক্রিন ২০ মিনিট পর কাজ শুরু করে: ভুল। সানস্ক্রিন আসলে মাখার পরই কাজ করে। তবে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা মানে ফর্মুলাটা শুকিয়ে স্তর তৈরি করার সময় দেওয়া।
কৃষ্ণাঙ্গদের সানস্ক্রিন দরকার নেই: ভুল। গাঢ় ত্বকেও পোড়া, ক্যান্সার ও হাইপারপিগমেন্টেশনের ঝুঁকি থাকে।
সানস্ক্রিন ভিটামিন ডি কমায়: না। সামান্য রোদ পেলেই শরীর ভিটামিন ডি তৈরি করে ফেলে। অতিরিক্ত রোদ কেবল ডিএনএ ক্ষতি বাড়ায়।
সানস্ক্রিন ক্যান্সার বাড়ায়: না। বরং সানস্ক্রিন মেখে রোদে বেশি সময় কাটালে তার কার্যকারিতা হারিয়ে রোদে পোড়ার ঝুঁকি বাড়ে।