ডা. কামরুল হাসান: শিশুর দাঁত নিয়ে আমাদের সমাজে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। অনেক মা-বাবা মনে করেন, দুধের দাঁত যেহেতু স্থায়ী নয় এবং একসময় পড়েই যাবে, তাই এর যত্নের তেমন প্রয়োজন নেই। দাঁতে গর্ত হলে বা ক্ষয় হলে তারা সেটিকে ফেলে দেন, কিন্তু চিকিৎসা করান না। অথচ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দাঁতের মতো শিশুর দুধের দাঁতের যত্ন নেওয়াও সমানভাবে জরুরি।
দাঁতের ক্ষয় ও তার কারণ
শিশুর দাঁতের একটি পরিচিত রোগের নাম হলো ‘নার্সিং বোটল সিনড্রোম’ বা ‘আর্লি চাইল্ডহুড ক্যারিস’। এই রোগে সাধারণত সামনের দাঁতগুলোতে গর্ত বা ক্ষয় দেখা যায়। অনেক সময় গর্ত বড় হতে হতে দাঁতের ভেতরের নার্ভ বা পাল্পে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ শুরু হয়, যার ফলে শিশুর দাঁতে প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে।
চিকিৎসা ও সমাধান
দাঁতের ক্ষয় বা গর্ত ছোট হলে তা ফিলিং করে সারিয়ে তোলা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গ্লাস আয়নোমার ফিলিং নামে একধরনের ফ্লুরাইড নিঃসরণ ক্ষমতাসম্পন্ন উপাদান ব্যবহার করা হয়। ফ্লুরাইড দাঁতকে আরও ক্ষয় হওয়া থেকে রক্ষা করে। যদি গর্ত অনেক বড় হয়, তখন বড়দের রুট ক্যানাল চিকিৎসার মতো পালপোটমি বা পালপেকটমি চিকিৎসা করে দুধের দাঁতকে তার স্বাভাবিক বয়স পর্যন্ত রক্ষা করা হয়।
অকালে দাঁত হারানোর কুফল
যদি কোনো দুধের দাঁত সঠিক সময়ের অনেক আগেই পড়ে যায় বা অনেক দেরিতে পড়ে, তাহলে সেই দাঁতের নিচের স্থায়ী দাঁতটি আঁকাবাঁকা হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে দাঁত উঁচু-নিচু বা ফাঁকা হয়ে যেতে পারে। এই সমস্যা প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো, দুধের দাঁতকে তার স্বাভাবিক পড়ে যাওয়ার বয়স পর্যন্ত সুস্থ রাখা এবং অকালে ফেলে না দেওয়া।
শিশুর দাঁতের যত্নে করণীয়
শিশুর দাঁত সুস্থ রাখতে মা-বাবাকে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে:
শিশুকে রাতে খাওয়ানোর পর অবশ্যই মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে দিন।
যদি শিশু খেতে খেতে ঘুমিয়ে পড়ে, তাহলে একটি ভেজা কাপড় দিয়ে দাঁতগুলো মুছে দিন।
শিশুর বয়স ছয় মাস থেকে দাঁত ওঠা শুরু হয়। এই সময় থেকেই দাঁত পরিষ্কারের অভ্যাস করানো উচিত।
বছরে অন্তত দুবার শিশুকে একজন ডেন্টিস্টের কাছে নিয়ে দাঁত পরীক্ষা করান।
নিয়মিত যত্ন এবং সঠিক চিকিৎসা শিশুর দাঁতকে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে সাহায্য করবে।
লেখক: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
