সুদীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটল নেইমারের। অপেক্ষা ঘুচল যেন পুরো ব্রাজিলেরও। নেইমারকে নিয়েই বিশ্বকাপে হেক্সা মিশনে (ষষ্ঠ শিরোপা) যাবে ব্রাজিল। রিও ডি জেনিরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’তে গত সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি যখন ২৬ জনের চূড়ান্ত তালিকা পড়ে শোনান, তখন আনচেত্তি নেইমারের নাম উচ্চারণ হতেই করতালিতে মুখর হয়ে উঠেছিল চারপাশ। মিলনায়তনজুড়ে তো বটেই, পুরো বিশ্বের ব্রাজিল সমর্থকদের মনে বয়ে যায় আনন্দধারা। আনচেলত্তির এই স্কোয়াডকে বাস্তবতার নিরিখে অনেকেই যথোপযুক্ত বললেও চেলসি স্ট্রাইকার জোয়াও পেদ্রোর বাদ পড়া নিয়ে চলছে হাহাকার। রোনালদিনহো, রবার্তো কার্লোসের মতো কিংবদন্তিরা পেদ্রোকে বাদ দেওয়ার কড়া সমালোচনা করেছেন।
কয়েক মাস ধরে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল বিশ্বকাপে নেইমারের থাকা, না থাকার বিষয়টি। আনচেলত্তিও কম পরীক্ষা নেননি সাবেক বার্সা ও পিএসজি তারকার। ২০২৩ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে চোট পাওয়ার পর থেকে নেইমার ছিলেন জাতীয় দলের বাইরে। আর গত বছর ব্রাজিলের দায়িত্ব নিয়েই আনচেলত্তি ঘোষণা করেন, শতভাগ ফিট হলেই নেইমারকে বিশ্বকাপে ডাকা হবে। চোট আর ফর্মহীনতার কারণে গত মার্চে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে তাঁকে দলে রাখেননি। অবশ্য নেইমারের ক্যারিয়ার এলোমেলো হতে থাকে আরও আগে থেকেই। পিএসজি থেকে সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলালে নাম লেখালেও চোটের কারণে খুব বেশি সময় মাঠে নামতে পারেননি।
অনেকটা বাধ্য হয়েই আল হিলালের সঙ্গে চুক্তির ইতি টেনে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ছোটবেলার ক্লাব সান্তোসে ফিরে আসেন নেইমার। লক্ষ্য ছিল একটাই, পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আবার জাতীয় দলে ফেরা। এখানেও বারবার চোটে পড়েন। এর মধ্যে গত রোববার কোরিতিবার বিপক্ষে ব্রাজিল লিগের একটি ম্যাচে বাঁ পায়ের গোড়ালিতে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করায় আবার শঙ্কা ঘিরে ধরেছিল। ওইদিনই ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) উদ্যোগে নেইমারের গোড়ালির পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকরা এবার চোটের কোনো লক্ষণ পাননি। এর পরই ৩৪ বছর বয়সী সান্তোস তারকার বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়া অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়। সোমবার আনচেলত্তির ঘোষণার মধ্য দিয়ে নিশ্চিন্ত হন নেইমার। এভাবেই আড়াই বছর পর জাতীয় দলে ফিরলেন ব্রাজিলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ৭৯টি গোল করা নেইমার। এটা হতে যাচ্ছে তাঁর টানা চতুর্থ বিশ্বকাপ।
পেদ্রো বাদ পড়ায় সমালোচনা
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে প্রত্যাশা মতো প্রায় সব তারকাই স্থান পেয়েছেন। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনহা, এনদ্রিক, রায়ান, ম্যাথিউস কুনিয়াদের সবাই আছেন। তবে জায়গা পাননি চেলসি স্ট্রাইকার জোয়াও পেদ্রো। তাঁকে বাদ দেওয়ায় কোচ আনচেলত্তির কড়া সমালোচনা করেছেন বিশ্বকাপজয়ী রবার্তো কার্লোস, ‘পেদ্রোর মতো একজন মানসম্পন্ন ও বৈচিত্র্যপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিশ্বকাপ দলে রাখা উচিত ছিল। সে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলতে পারে, ফলস নাইন হিসেবে খেলতে পারে, লেফট উইংয়েও দারুণ কার্যকর। তার মতো একজনকে বাদ দিয়ে চোটপ্রবণ নেইমারকে নেওয়া মোটেই ভালো সিদ্ধান্ত নয়। সে (নেইমার) তো আগের মতো ধারালো নয়। আর পেদ্রো চেলসিতে দারুণ একটি মৌসুম পার করেছে।’ রোনালদিনহোও কোচের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন, ‘আনচেলত্তি সব সময় বৈচিত্র্যপূর্ণ ও স্মার্ট ফুটবলারের কথা বলেন। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিলের সবচেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ ও স্মার্ট ফুটবলারকে বাদ দিলেন তিনি।’ থিয়াগো সিলভার মতে, পেদ্রোকে বাদ দিয়ে ম্যাথিউস কুনহা বা ইগর থিয়াগোকে দলে নেওয়া মোটেই যৌক্তিক নয়। পেদ্রো অবশ্য বিষয়টা মেনে নিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণ না হলেও তাঁর চাওয়া ব্রাজিল যেন হেক্সা নিয়ে বাড়ি ফিরে।
