সারাদেশে সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার আশঙ্কা নিয়ে পুলিশ সদরদপ্তরের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) যুগ্ম কমিশনার মুনশী সাহাবুদ্দীন।
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর মিন্টুরোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত চলমান ‘এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্রশ্নপত্র ফাঁস সম্পর্কিত অনলাইন প্রতারণা সংক্রান্ত’ ব্রিফিং শেষে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
দেশে জঙ্গি হামলার শঙ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন, ‘আমরা এই তথ্য পেয়েছি, আমাদের সিটিটিসি, সাইবার ইন্টিলিজেন্সসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এটা নিয়ে কাজ করছি।’
আশ্বস্ত করে তিনি আরও বলেছেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা কাজ করছি, ইনশাল্লাহ আমরা এটাকে ফেস করতে পারব।’
ব্রিফিংয়ে সিটিটিসির যুগ্ম কমিশনার জানান, এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের নামে একটি প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তবে তাদের সরবরাহ করা প্রশ্নের সঙ্গে আসল প্রশ্নপত্রের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ সময় পুলিশ সদরদপ্তরের চিঠিতে সামরিক বাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই বলেও জানান মুনশী সাহাবুদ্দীন।
এর আগে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সম্ভাব্য নাশকতা পরিকল্পনা ঘিরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পুলিশ সদরদপ্তর থেকে রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার ও সব জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সব ইউনিটকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। চক্রটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা- জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা ও সদস্য, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র এবং শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলার পরিকল্পনা করতে পারে।
বোমা বিস্ফোরণের পাশাপাশি দেশীয় ধারালো অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলার আশঙ্কাও রয়েছে। এ ছাড়া তারা বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনাও করে থাকতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, সংশ্লিষ্টরা দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
