সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে আদালতের আদেশের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারকের উদ্দেশে লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, তিনি আদালতে আসবেন। তার আদালতে আসতেই ভালো লাগে।
আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আবেদন মঞ্জুর করলে তিনি এসব কথা বলেন।
আজ মামলার দিন ধার্য ছিল। আদালতে হাজিরা দেন লতিফ সিদ্দিকী। লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে আগেই আবেদন করা ছিল আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার। শুনানি নিয়ে তার স্বশরীরের হাজিরা মওকুফ করে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দিতে পারবেন মর্মে আদেশ দেন আদালত।
আদেশের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারকের উদ্দেশ্যে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘এভাবে বিচারব্যবস্থা চলতে পারে না। গত ৬ মাসে আগে এই মামলায় আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। আজকে এই আদেশ দিলেন। আমি আদালতে আসবো, হাজিরা দেব। আমার আদালতে আসতে ভালো লাগে, অভ্যাস হয়ে গেছে।’
এ সময় বিচারক বলেন, ‘সেটা আপনার ইচ্ছা। আপনার আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।’
পরে হাজিরা দিয়ে হাসিমুখে আদালত ছাড়েন লতিফ সিদ্দিকী।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায় , গত ৫ অগাস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। গত ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ‘মঞ্চ ৭১’। বেলা ১১টায় সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মধ্যেই একদল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিতও করেন।
হট্টগোলকারীরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে অতিথিদের অনেককেই বের করে দেওয়া হলেও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন উপপরিদর্শক (এসআই) আমিরুল ইসলাম।
