সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী আলোচিত মডেল ও অ্যাক্টিভিস্ট ফারজানা সিঁথি বলেছেন, সংসদে গিয়ে তিনি নারীদের প্রকৃত কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করতে চান। কোটা সংস্কার আন্দোলনের অগ্নিকন্যা হিসেবে পরিচিত এই মানবাধিকার কর্মী সংবাদ সম্মেলনে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান, বিতর্ক এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
শনিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফারজানা সিঁথি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসন এমন একটি জায়গা, যেখানে দলমত নির্বিশেষে নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, অতীতেও তিনি নারীর অধিকার নিয়ে সোচ্চার ছিলেন এবং সংসদে গেলে ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ সব সমস্যা তুলে ধরবেন।
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণেই এই আন্দোলন সফল হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা তৈরি হচ্ছে, যা তিনি সংসদে গিয়ে প্রতিহত করতে চান।
নিজ জেলা নড়াইলের প্রসঙ্গ টেনে সিঁথি বলেন, তিনি জেলার মানুষের প্রতিনিধি হয়ে সংসদে যেতে চান। নারীদের পাশাপাশি শ্রমিক, প্রবাসীসহ সব শ্রেণির মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার অঙ্গীকার করেন তিনি।
প্রশ্নোত্তর পর্বে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সিঁথি। মনোনয়ন নেওয়ার সময় মিডিয়ার সামনে না আসার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি পালিয়ে যাননি, বরং আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলার জন্যই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।
দলের ত্যাগী নেত্রীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের প্রতি তার সম্মান রয়েছে। তবে প্রবীণদের অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের নতুন চিন্তা একসঙ্গে কাজ করলে দল ও দেশের জন্য ভালো হবে বলে তিনি মনে করেন।
নিজের রাজনৈতিক অতীত নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সিঁথি জানান, তিনি ছাত্রজীবনে কোনো দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। মানবাধিকার কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন।
৫০ হাজার টাকা সংক্রান্ত ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি মনোনয়ন ফরমের অফিসিয়াল ফি, কোনো অনৈতিক লেনদেন নয়।
‘জুলাই সনদ’ নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া উচিত এবং জনগণের ম্যান্ডেট থাকা প্রয়োজন।
সবশেষে তিনি বলেন, মনোনয়ন দেওয়া দলের সিদ্ধান্ত হলেও তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন এবং দেশের মানুষের ভালোবাসাই তার বড় শক্তি।
