English

16 C
Dhaka
সোমবার, জানুয়ারি ১২, ২০২৬
- Advertisement -

‘সাবেক স্ত্রী’ বলাতে আপত্তি জানিয়ে মডেলের খোলা চিঠি

- Advertisements -

১৬ বছর বয়সে বিয়ে, যেখানে কোনোরকম সম্মতি ছিল না কনের। বরং এই বিয়ে নামক রাজকীয় আয়োজন তার জীবনে নিয়ে এসেছিল নারকীয় নির্যাতন। পরে সেখান থেকে পালিয়ে বেঁচেছিলেন ইন্দোনেশীয়-আমেরিকান মডেল মনোহারা ওডেলিয়া পিনট।

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা এক খোলা চিঠিতে ফের সরব হলেন তিনি। জানালেন নিজের আপত্তির কথা।

২০০৮ সালে মালয়েশিয়ার কেলান্তান রাজ্যের সুলতানের ছেলে টেংকু মুহাম্মদ ফাখরি পেত্রা যখন মনোহারাকে বিয়ে করেন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। সম্প্রতি দেওয়া এক বিবৃতিতে ৩৩ বছর বয়সী মনোহারা স্পষ্ট করেছেন যে, সেই সম্পর্কটি কখনোই সম্মতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠেনি।

তিনি বলেন, আমার কৈশোরে যা ঘটেছিল তা কোনো রোমান্টিক সম্পর্ক ছিল না, তা সম্মতির ভিত্তিতে হয়নি এবং সেটি কোনো আইনি বিয়েও ছিল না। আমি কখনোই এই সম্পর্কে স্বেচ্ছায় প্রবেশ করিনি।

বিয়ের পর তাকে মালয়েশিয়ার কেলান্তান প্রাসাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি একপ্রকার কারাবন্দি জীবন কাটাতেন। মনোহারার অভিযোগ, তাকে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে দেওয়া হতো না এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, যৌন হেনস্তা ও শারীরিক নির্যাতন ছিল তার নিত্যদিনের ঘটনা। তিনি বলেন, যৌন নির্যাতন ছিল রুটিনের মতো। প্রতিবার যখন আমি অনিচ্ছা প্রকাশ করতাম, তখনই নির্যাতনের শিকার হতাম।

গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে মনোহারা গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর (গুগল ও উইকিপিডিয়া) প্রতি একটি কড়া আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তাকে ‘সাবেক স্ত্রী’ হিসেবে সম্বোধন করার তীব্র বিরোধিতা করেছেন।

এক্ষেত্রে তার যুক্তি হলো- ‘সাবেক স্ত্রী’ শব্দটি ব্যবহার করলে মনে হয় যে, এটি একজন প্রাপ্তবয়স্কের সম্মতির ভিত্তিতে হওয়া কোনো বৈধ সম্পর্ক ছিল। যেহেতু তিনি তখন নাবালিকা ছিলেন এবং তাকে বাধ্য করা হয়েছিল, তাই সেই বিয়ে আইনি ভিত্তি রাখে না। এ ছাড়া এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করে মূলত একজন নাবালিকার ওপর করা জবরদস্তি ও শোষণকে আড়াল করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে একটি পারিবারিক সফরে সিঙ্গাপুরে থাকাকালীন মনোহারা অবিশ্বাস্য সাহসিকতার পরিচয় দেন। নিজের মা, স্থানীয় পুলিশ এবং মার্কিন দূতাবাসের সহায়তায় তিনি হোটেল থেকে পালিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় ফিরে যেতে সক্ষম হন। সেই পলায়নের মধ্য দিয়ে তার শারীরিক বন্দিত্ব ঘুচলেও, নাম ও পরিচয়ের ভুল ব্যবহার তাকে এখনো মানসিক পীড়া দিচ্ছে।

মনোহারা তার লেখা খোলা চিঠিতে সাংবাদিক ও সম্পাদকদের প্রতি অনুরোধ করেছেন যেন তার জীবনের এই ট্র্যাজেডিকে বর্ণনার ক্ষেত্রে ‘বিয়ে’ বা ‘সম্পর্ক’ জাতীয় শব্দ ব্যবহার করে একে স্বাভাবিক রূপ দেওয়া না হয়। তিনি মনে করেন, এটি কেবল তার একার লড়াই নয়, বরং ক্ষমতার অসম বণ্টন ও নাবালিকা নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর একটি ভাষা।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/rfcb
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন