ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে ‘মেলোডি’ টফি উপহার দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কড়া সমালোচনার মুখে ফেলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
রাহুলের অভিযোগ, দেশ যখন অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি চাপ মোকাবিলা করছে, তখন প্রধানমন্ত্রী ‘রিল বানানো’ ও ‘টফি বিতরণে’ ব্যস্ত।
সম্প্রতি ইতালি সফরে মেলোনির সঙ্গে মোদির একটি সেলফি ও ‘মেলোডি’ টফি উপহার দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দুই নেতাকে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়। এরপর থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নেয়।
ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ঘটনাটিকে মোদির ‘রসবোধের উদাহরণ’ হিসেবে তুলে ধরলেও বিরোধীরা এটিকে বাস্তব সংকট থেকে দৃষ্টি সরানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে।
রায়বেরেলির এক সমাবেশে রাহুল গান্ধী বলেন, জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি আর শিল্পখাতের চাপের মতো বিষয়গুলো নিয়ে সরকার জনগণকে সতর্ক করছে, কিন্তু নিজেদের ব্যয়বহুল বিদেশ সফর অব্যাহত রেখেছে। তার অভিযোগ, কৃষক, শ্রমিক, তরুণ আর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চাপে থাকলেও সরকার বাস্তব সংকটের বদলে ইমেজ তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছে।
তার ভাষায়, ‘ইতালি যাওয়ার আগে, মেলোনির সঙ্গে দেখা করার আগে তিনি (মোদি) বলেছিলেন, অর্থনৈতিক ঝড় আসছে। কম পেট্রোল ব্যবহার করুন, স্বর্ণ কিনবেন না, বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনুন, আর বিদেশ সফর এড়িয়ে চলুন। আর ঠিক তার একদিন পরেই, তিন-চার হাজার কোটি রুপির বিমানে চড়ে নরেন্দ্র মোদি ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। পকেটে করে টফি নিয়ে গেলেন, আর সেখানে ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে টফি খাওয়ালেন।’
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের পর থেকেই ভারতের অর্থনীতির দুর্বলতা আরও প্রকট হয়েছে। বড় শিল্পগোষ্ঠীর হাতে সম্পদ কেন্দ্রীভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষ চাপে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘এই দেশের জনগণের সঙ্গে প্রহসন করা হচ্ছে। দেশে পেট্রোলের সংকট, গ্যাসের সংকট, ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, কারখানা বন্ধ হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি বেড়েই চলেছে, কৃষকরা সার পাচ্ছেন না। পুরো শিল্পব্যবস্থাই ধ্বংসের মুখে।’
তবে রাহুল গান্ধীর এসব অভিযোগের আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি বিজেপি।
