স্মার্টওয়াচ এখন শুধু সময় দেখা বা ফোনের নোটিফিকেশন চেক করার ডিভাইস নয়। ধীরে ধীরে এটি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। হার্ট রেট, ঘুমের মান, রক্তচাপ বা শরীরচর্চার তথ্য পর্যবেক্ষণের পর এবার অজ্ঞান হওয়ার আগাম সংকেত শনাক্ত করার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে স্যামসাং। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় পরিচালিত একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, স্যামসাংয়ের স্মার্টওয়াচ অজ্ঞান হওয়ার কয়েক মিনিট আগেই ব্যবহারকারীকে সতর্ক করতে সক্ষম হতে পারে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার চুং-আং ইউনিভার্সিটি গুয়াংমিয়ং হাসপাতালের সঙ্গে যৌথভাবে এই গবেষণা চালানো হয়। গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল ভ্যাসোভ্যাগাল সিনকোপ নামে পরিচিত একটি শারীরিক সমস্যাকে শনাক্ত করা। এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে হঠাৎ হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ কমে যাওয়ার কারণে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন।
স্যামসাংয়ের দাবি, এটি বিশ্বের প্রথম সফল গবেষণা যেখানে একটি বাণিজ্যিক স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করে অজ্ঞান হওয়ার আগাম পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয়েছে। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নাল ডিজিটাল হেলথে।
এই গবেষণায় ব্যবহার করা হয় স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি ওয়াচ ৬। স্মার্টওয়াচটির পিপিজি বা ফটোপ্লেথিসমোগ্রাফি সেন্সরের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের হার্ট রেট ভ্যারিয়েবিলিটি এবং শরীরের বিভিন্ন বায়োসিগন্যাল পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষণায় মোট ১৩২ জন রোগী অংশ নেন, যাদের মধ্যে ভ্যাসোভ্যাগাল সিনকোপের উপসর্গ ছিল বলে সন্দেহ করা হয়েছিল।
চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষার সময় সংগৃহীত তথ্য এআই-ভিত্তিক একটি প্রেডিকশন মডেলের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়। স্যামসাং জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি অজ্ঞান হওয়ার প্রায় পাঁচ মিনিট আগেই সতর্ক সংকেত শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। পুরো সিস্টেমটির নির্ভুলতার হার ছিল প্রায় ৮৪.৬ শতাংশ। এছাড়া মডেলটির সেনসিটিভিটি ছিল ৯০ শতাংশ এবং স্পেসিফিসিটি ছিল ৬৪ শতাংশ।
চিকিৎসকদের মতে, ভ্যাসোভ্যাগাল সিনকোপ সাধারণত অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ভয়, ব্যথা বা আবেগজনিত কারণে হতে পারে। যদিও এটি সবসময় প্রাণঘাতী নয়, তবে হঠাৎ পড়ে গিয়ে গুরুতর আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। অনেক ক্ষেত্রে মাথায় আঘাত, হাড় ভাঙা বা কনকাশনের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
চুং-আং ইউনিভার্সিটি গুয়াংমিয়ং হাসপাতালের অধ্যাপক জুনহওয়ান চো বলেন, আগাম সতর্কতা পেলে রোগীরা সময়মতো বসে পড়তে, নিরাপদ স্থানে যেতে বা সাহায্য চাইতে পারবেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।
যদিও স্যামসাং এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি কবে এই ফিচার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, তবে ধারণা করা হচ্ছে ভবিষ্যতের গ্যালাক্সি ওয়াচ সিরিজে এই প্রযুক্তি যুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে যেসব মডেলে পিপিজি সেন্সর এবং হার্ট রেট ভ্যারিয়েবিলিটি ট্র্যাকিং সুবিধা রয়েছে, সেগুলো ভবিষ্যতে এই ফিচার সাপোর্ট করতে পারে।
স্বাস্থ্য প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ যে আরও স্মার্ট ও প্রতিরোধমূলক হতে যাচ্ছে, স্যামসাংয়ের এই গবেষণা তারই একটি বড় ইঙ্গিত বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।