বিশ্বখ্যাত জলবায়ু গবেষণা সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’ এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে তীব্র গরম ও আর্দ্রতা খেলোয়াড় এবং দর্শক উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক হতে পারে। এই গবেষণার পর পেশাদার ফুটবলারদের বৈশ্বিক ইউনিয়ন ‘ফিফপ্রো’ গতকাল তাদের গভীর উদ্বেগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এবারের বর্ধিত আসরে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা জুড়ে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞানীদের মতে এই ম্যাচগুলোর প্রায় এক-চতুর্থাংশ এমন প্রতিকূল আবহাওয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যা ফিফপ্রো নির্ধারিত নিরাপৎসীমার চেয়েও বেশি। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের আসরে এই ঝুঁকির মাত্রা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, অন্তত পাঁচটি ম্যাচ এমন ভয়াবহ গরমে হতে পারে যেখানে খেলা স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।
এই ঝুঁকি পরিমাপের জন্য বিজ্ঞানীরা কিক-অফের সময় এবং ‘ওয়েট বাল্ব গ্লোব টেম্পারেচার’ সূচক ব্যবহার করেছেন। এটি এমন একটি পরিমাপ যা বাতাসের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বিশ্লেষণ করে মানুষের শরীর কতটা কার্যকরভাবে নিজেকে শীতল করতে পারে তা নির্ধারণ করে।
ফিফপ্রোর মেডিক্যাল ডিরেক্টর ভিনসেন্ট গুটবার্জ জানিয়েছেন, তাদের ২০২৩ সালের পূর্বাভাসের সঙ্গে বিজ্ঞানীদের এই নতুন হিসাবের মিল রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, ফুটবলারদের স্বাস্থ্য ও মাঠের পারফরম্যান্স সুরক্ষায় বিশেষ কৌশল অবলম্বন করা এখন সময়ের দাবি। ফিফপ্রোর নির্দেশনা অনুযায়ী যখন ডব্লিউবিজিটি সূচক ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে তখন শরীর শীতল করার বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। আর এই সূচক ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেলে ম্যাচ স্থগিত করা উচিত।
ফিফা অবশ্য রয়টার্সকে জানিয়েছে যে, তারা এই তাপ ঝুঁকি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তাদের গৃহীত ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে খেলার প্রতি অর্ধে তিন মিনিটের পানি পানের বিরতি এবং খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য স্টেডিয়ামে বিশেষ কুলিং অবকাঠামো নির্মাণ। এছাড়া তাৎক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে খেলোয়াড়দের বিশ্রাম নির্ধারণ এবং উন্নত মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ফিফা।
