২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বেড়েছে বলে সতর্ক করেছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ইরান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত এবং ফেডারেল আইনপ্রয়োগকারী সংস্থায় সন্ত্রাসবিরোধী দক্ষতার ঘাটতি—দুই মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ‘লোন উলফ’ বা একক হামলাকারীদের ঝুঁকি এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে সামনে আসছে।
এই বিশ্বকাপ প্রায় ছয় সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো মিলিয়ে মোট ১০৪টি ম্যাচ আয়োজন করা হবে। এর মধ্যে ৭৮টি ম্যাচ হবে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি শহরে—যেমন আটলান্টা, বোস্টন, ডালাস, হিউস্টন, লস অ্যাঞ্জেলেস, মিয়ামি ও নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ড। বিশাল ভেন্যু ও বিপুল জনসমাগমের কারণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, শুধুমাত্র ফাইনাল ম্যাচটি ‘ন্যাশনাল স্পেশাল সিকিউরিটি ইভেন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, যেখানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। তবে অন্যান্য ম্যাচও ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়ে ফেডারেল নিরাপত্তা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে চলবে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে নিরাপত্তা ও জরুরি প্রস্তুতির জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ৬২৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল স্টেডিয়ামগুলোর নিরাপত্তা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী (‘হার্ড টার্গেট’) হলেও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে ‘সফট টার্গেট’ বা দুর্বল স্থানগুলো—যেমন হোটেল, পরিবহন কেন্দ্র, ফ্যান ফেস্ট ও বড় পর্দায় খেলা দেখার জমায়েত। প্রতিটি আয়োজক শহরে ফিফার আনুষ্ঠানিক ফ্যান ফেস্ট হবে, যেখানে কনসার্ট ও সরাসরি খেলা দেখার আয়োজন থাকবে। এ ছাড়া হাজার হাজার অনানুষ্ঠানিক ওয়াচ পার্টি হবে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, শুধু জনসমাগম নয়—ড্রোন হামলার ঝুঁকিও বাড়ছে। সহজে পরিচালনাযোগ্য এই প্রযুক্তি সন্ত্রাসীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে সাইবার হামলার মতো প্রযুক্তিনির্ভর হুমকিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
আরেকটি বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি। সাবেক সিআইএ ও এফবিআই কর্মকর্তা ট্রেসি ওয়ালডার বলেন, সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের ঘাটতি অতীতেও বড় নিরাপত্তা ব্যর্থতার কারণ হয়েছে।
বিশেষ উদ্বেগ তৈরি করেছে সম্ভাব্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ। ৩ জুলাই টেক্সাসে স্বাধীনতা দিবসের আগের সন্ধ্যায় এই ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে হিউস্টনে সৌদি রাজপরিবারের বড় উপস্থিতি থাকবে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়াতে পারে। এদিকে এফবিআই ইতোমধ্যে দেশজুড়ে মহড়া পরিচালনা করেছে এবং বিভিন্ন সংস্থা সমন্বয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ছোট কোনো দুর্বলতাও বড় হামলার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
