জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম। দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ার শেষে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানাচ্ছেন তিনি। শুক্রবার (১ মে) কিংস অ্যারেনায় লিগে রহমতগঞ্জের বিপক্ষে ফর্টিস এফসির জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলবেন ৩৭ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিদায় ম্যাচকে সামনে রেখে ফর্টিস ক্লাব হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন মামুনুল। এ সময় নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারে দুটি আক্ষেপের কথা বলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এই অধিনায়ক।
মামুনুল বলেন, ‘ফুটবল থেকে আমি অনেক কিছু পেয়েছি। নাম বলেন, খ্যাতি বলেন, অর্থ বলেন, ট্রফি বলেন, অর্জন বলেন—অনেক কিছু। এখন শুধু ঋণ শোধের পালা।’
২০০৫ সালে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে মামুনুলের পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু হয়। আর জাতীয় দলের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার অভিষেক হয় ২০০৮ সালে। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেন তিনি। লাল-সবুজ জার্সিতে ৬৭টি ম্যাচ ৩টি গোল করেছেন এই মিডফিল্ডার।
জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মামুনুলের অন্যতম সাফল্য ২০১০ সালে ঘরের মাঠে অনূর্ধ্ব–২৩ দলের হয়ে এসএ গেমসে সোনা জয়। এছাড়া দেশের ১১টি ক্লাবে হয়ে খেলে শেখ জামালের হয়ে তিনটি লিগ শিরোপা ও দুটি ফেডারেশন কাপ জিতেছেন।
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সাফল্য আছে মামুনুলের। ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) ক্লাব অ্যাটলেটিকো ডি কলকাতার (এডিকে) হয়েও লিগ শিরোপা জিতেছেন তিনি। তবে সেই মৌসুমে এডিকের হয়ে মাঠে নামার সুযোগ পাননি এই মিডফিল্ডার। যা তার কাছে বেশ আক্ষেপের।
বিদায়বেলায় নিজের আক্ষেপের কথা বলতে গিয়ে মামুনুল বলেন, ‘সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন না হতে পারা আমার বড় আক্ষেপ। আর এডিকেতে চ্যাম্পিয়ন টিমের মেম্বার হয়েও প্লেইং টাইম না পাওয়াটাও আক্ষেপ। এই দুইটা আক্ষেপ যত দিন বেঁচে থাকব, তত দিন থেকে যাবে।’
খেলোয়াড় জীবনের ইতি টানলেও ফুটবলের সঙ্গে থাকার ইচ্ছের কথা জানান মামুনুল। তিনি বলেন, ‘আমার (কোচিংয়ে) এ লাইসেন্সধারী কোর্স করা আছে, কোচিং করানোর সার্টিফিকেট আছে। ফুটবল ছাড়া থাকাটা আমার জন্য কষ্টের। স্পোর্টস আমাদের সবকিছু, বলতে গেলে ফুটবলই আমার সবকিছু।’
