ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফিটির পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে বিশ্বসেরা স্ট্রাইকারদের নজর থাকে আরেকটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের দিকে, আর সেটি হলো গোল্ডেন বুট। আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকায় পর্দা উঠতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর। আর এই মেগা আসরকে সামনে রেখে ফুটবলপ্রেমীদের মনে আবারও রোমাঞ্চ জাগাতে শুরু করেছে সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াই।
আগামী ১৯ জুলাই ফাইনালের চূড়ান্ত বাঁশি বাজার পর যার ঝুলিতে থাকবে সবচেয়ে বেশি গোল, তিনিই ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তিদের পাশে নিজের নাম লেখাবেন। এবারের আসরে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই সম্মাননা জেতার দৌড়ে শুরু থেকেই ফেভারিট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপেকে।
বিশ্বকাপের গোলদাতার ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯৩০ সালের প্রথম আসরেই আর্জেন্টিনার গুইলার্মো স্তাবিল আট গোল করে এই যাত্রা শুরু করেছিলেন। এরপর ফুটবলবিশ্ব দেখেছে জাস্ট ফন্টেইনের মতো ফরাসি স্ট্রাইকারকে, যিনি ১৯৫৮ সালের এক আসরেই রেকর্ড ১৩টি গোল করেছিলেন, যা আজও অবিচ্ছিন্ন। সময়ের সাথে সাথে এই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন পেলে-পরবর্তী যুগের গ্যারিঞ্চা, ইউসেবিও এবং জার্মানির কিংবদন্তি গার্ড মুলারের মতো তারকারা। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে মুলারের ১০ গোলের পর থেকে আধুনিক ফুটবলে গোলসংখ্যার হিসাবটা কিছুটা কমে এলেও প্রতিযোগিতার রোমাঞ্চ কমেনি একটুও।
১৯৮২ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত পাওলো রসি, গ্যারি লিনেকার এবং ড্যাভর সুকারের মতো ফুটবলাররা ছয়টি করে গোল করে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখেন।
নতুন শতাব্দীতে এসে ২০০২ সালে ব্রাজিলের ‘দ্য ফেনোমেনন’ রোনালদো আট গোল করে ফুটবলবিশ্বকে মন্ত্রমুগ্ধ করেছিলেন। এরপর জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা এবং থমাস মুলার নিজেদের জাত চিনিয়েছেন। ২০১৪ সালে কলম্বিয়ার হামেস রদ্রিগেজ এবং ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন ছয় গোল করে এই ট্রফি নিজেদের করে নেন। তবে কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে আবারও আট গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে।
ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, ৩২ বছর পর যখন বিশ্বকাপ আবার যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ফিরছে, তখন টুর্নামেন্টের কলেবর বৃদ্ধির পাশাপাশি টিকেটের আকাশচুম্বী মূল্য এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবারের আসরকে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও রোমাঞ্চকর টুর্নামেন্টে পরিণত করতে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এবার কার পায়ে উঠবে এই সোনালি বুট, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।
