পুনর্বিন্যাসের জন্য ২ হাজার ৪০০ প্রকল্প পর্যালোচনা করছে সরকার: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

- Advertisements -

চলমান ও নতুন মিলিয়ে ২ হাজার ৪০০ প্রকল্প পর্যালোচনা করছে সরকার। প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা ও নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। সরকার এখন একক প্রকল্পের পরিবর্তে কর্মসূচিভিত্তিক উন্নয়নের দিকে যেতে চায়। একই লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোকে একটি কর্মসূচির আওতায় এনে ওভারল্যাপিং বা দ্বৈততা কমানো এবং সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মত বিনিময়ে আজ রোববার এসব কথা বলেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা, অপচয় ও অতি ব্যয়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক এই সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানান তিনি। পরিকল্পনা কমিশনে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে এই আয়োজন করা হয়।

Advertisements

প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি মানেই এক ধরনের ব্যয় বৃদ্ধি। অনেক ক্ষেত্রে এটি অপচয়েরও নামান্তর। তাই কেন প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বাড়ছে, তা খতিয়ে দেখতে আইএমইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যেসব প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের বেশি, সেগুলো বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অনেক প্রকল্পের পরিধি পুনর্নির্ধারণ ও পুনর্গঠনও করা হচ্ছে। বর্তমানে ১ হাজার ৩৩৩টি চলমান প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ১৫০টি আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব এসেছে। যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ২৭০টি প্রকল্পকে ‘গ্রিন পেজে’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের সংখ্যা ২ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে।

অতীতে প্রকল্পের প্রবণতা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক প্রকল্প যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়াই যুক্ত হয়েছে এবং পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাগুলো অনেক সময় কার্যকর দলিল হিসেবে কাজ করেনি। এবার সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে একটি বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর কৌশলপত্র তৈরি করা হচ্ছে, যা আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। এটি একটি ‘জীবন্ত দলিল’ হবে, যা সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন ও হালনাগাদ করা যাবে।

প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একাধিক প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা বা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী পিডিদের কারণে বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়। এজন্য সরকার একটি পৃথক ‘পিডি পুল’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্প প্রণয়নের শুরু থেকেই পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়।

Advertisements

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় না কোনো তথ্য কারসাজি বা রাজনৈতিক বিবেচনায় আটকে থাকুক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) আরও স্বাধীন, বিজ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রিয়েল-টাইম তথ্য সংগ্রহ, অটোমেশন এবং অতীতের তথ্যের ফরেনসিক পর্যালোচনার কাজও শুরু হয়েছে।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/t9q3
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন