দেড় মাস আগে ঘোষণা, কথা রেখেছেন বালাম

- Advertisements -

প্রচারণায় ছিল না কোনো শোরগোল। সমাজমাধ্যমেও আত্মপ্রচারে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়নি। বড় আওয়াজ না তুলেই প্রকাশিত হয়ে গেল বালামের ‘মাওলা’ অ্যালবামের শিরোনাম গানটি; যার মধ্য দিয়ে রক্ষা পেল শিল্পী ও সংগীতায়োজকের প্রতিশ্রুতি।

মাস দেড়েক আগে বালাম ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘‘একক গান নয়, ভক্ত-অনুরাগীদের জন্য এবার অ্যালবাম প্রকাশ করব। অ্যালবামের নাম ‘মাওলা’। ঈদুল ফিতরেই প্রকাশ পাবে অ্যালবামটি।’’

সেই ঘোষণা অনুযায়ী ঠিক ঈদের দিনই প্রকাশ পেল ‘মাওলা’ গানটি। যৌথভাবে এর কথা লিখেছেন রশিদ নিউটন ও বালাম। প্রযোজনা, সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন বালাম নিজে। শিল্পীর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশের পর এই গানটি এরই মধ্যে শ্রোতার মনোযোগ কেড়ে নিতে শুরু করেছে। অবাক করা বিষয় হলো, সময়ের আলোচিত শিল্পী যখন এক যুগ পর অ্যালবাম প্রকাশ করছেন, তখন তা নিয়ে জোরালো কোনো আওয়াজ উঠল না কেন?

পূর্ণাঙ্গ অ্যালবামটি প্রকাশ পেতে আরেকটু সময় লাগবে বলেই কী? না, ঠিক তা নয়।

আসলে বালাম নিজেই চাননি ঢাকঢোল পিটিয়ে এই প্রকাশনার খবর ছড়িয়ে দিতে। তাঁর চাওয়া, ভালো কাজগুলো কান থেকে কানে, ভালোলাগার অনুভূতি শেয়ার করার মধ্য দিয়ে সবার কাছে পৌঁছে যাক। বালাম আসলে এমনই।

যাঁর কণ্ঠ ও গায়কি নিয়ে অনেক আলোচনা, প্রশংসা ঝরে পড়ে শ্রোতামুখে; যাঁর নতুন আয়োজন নিয়ে সংগীতপ্রেমীদের কৌতূহলের শেষ নেই–সেই বালাম থাকেন আড়ালে। তাঁর এই আড়ালে থাকা অনেকের কাছেই রহস্যময়।

কিন্তু যখনই তাঁর নতুন কোনো গান প্রকাশ পায় এবং তা সময়কে ছাপিয়ে যায়–তখনই স্পষ্ট হয়, কেন তাঁর এই আড়ালে থাকা। ব্যক্তিজীবনের বাইরে বালাম যখনই একান্তই গানের মানুষ–তখন তাঁর প্রতিটি সৃষ্টি ধরা দেয় কাঙ্ক্ষিত আয়োজন হিসেবে।

গত কয়েক দশকের ইতিহাস ঘাঁটলে সেটিই চোখে পড়ে। তাই দীর্ঘ একযুগ পর যখন তাঁর পঞ্চম একক অ্যালবামের গান প্রকাশ পাওয়া শুরু হলো, তখনও চুপচাপ নিজের মতো সময় কাটাচ্ছেন বালাম। সংগীতের নতুন অধ্যায় লেখা শুরু করেও দ্বিধাগ্রস্ত আত্মপ্রচারে মেতে ওঠা নিয়ে। তবে বালাম নীরব থাকলেও শোরগোল ঠিকই শোনা যাবে তাঁর সৃষ্টি নিয়ে। নতুন কিছু পাওয়ার খুশিতে আত্মহারা হবে অগণিত ভক্ত-শ্রোতা।

এই দাবি করছেন খোদ তার অনুরাগীরাই। তাদের আনকোরা সংগীতায়োজন তুলে ধরাই নন্দিত এই শিল্পীর লক্ষ্য, যার প্রমাণ মিলেছে বহুবার। কখন কোন সুরে গাইতে হবে, কোন মূর্ছনায় সংগীতপ্রেমীদের হৃদয় স্পন্দনের ওঠা-নামা করে–তা বালামের খুব ভালোভাবেই জানা। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, যে শিল্পী, সুরকার ও সংগীতায়োজক সহজেই শ্রোতার পালস্ বুঝতে পারেন; তাঁর সম্পর্কে শ্রোতারা খুব বেশি কিছু জানার সুযোগ পান না। এই যেমন ক’দিন আগে ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার ‘ও প্রিয়তমা’ গানের জন্য শ্রেষ্ঠ কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পেলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, অথচ এ নিয়ে বালামের অনুভূতি কী? তা জানার সুযোগ হলো ভক্তদের।

বালামের কথা থেকে কেবল এটুকু জানা গেছে, এই স্বীকৃতি নিয়ে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা সবাই আনন্দিত। রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতির জন্য ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার টিম ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন। তারপরও এত বড় একটি অর্জন নিয়ে অনেকে যেভাবে উচ্ছ্বাস উল্লাস প্রকাশ করেন, তেমন কিছুই চোখে পড়েনি বালামের বেলায়। কারণ, বরাবরই তিনি নিভৃতচারী। কিছুটা অন্তর্মুখী। আরও তাঁর প্রমাণ মিলল ‘মাওলা’ গানের প্রকাশনায়।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/vu2i
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন