নাসিম রুমি: অনেকগুলো পরিচয় তার। বহুমাত্রিক এই প্রতিভা একাধারে অভিনেতা, নির্মাতা, লেখক ও চিত্রশিল্পী। বর্তমানে অভিনয় একদম কম করলেও সামাজিক মাধ্যমে মাঝেমধ্যেই নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা, সময় ও মানুষের সম্পর্ক নিয়ে গভীর ভাবনার কথা তুলে ধরেন। দেশের অভিনয় অঙ্গনের চিরসবুজ নায়ক বলে পরিচিতি পাওয়া আফজাল হোসেন কিছুদিন আগে নুহাশ হুমায়ূনের পরিচালনায় ‘মুভিং বাংলাদেশ’ নামে একটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। গত বছর ফিরেছেন মঞ্চ ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। তবে টিভি নাটকে দেখা যাচ্ছে না তাকে বেশ কিছুদিন ধরেই। ভালো গল্প পেলে নিজের চরিত্রটি মন দিয়ে অভিনয় করে শতভাগ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন তিনি। এখনো দর্শক তার অভিনীত যেকোনো নাটক দেখার জন্য ভীষণ প্রতীক্ষা নিয়ে বসে থাকেন। কারণ তারা জানেন, আফজাল হোসেন অভিনীত নাটক টেলিফিল্ম মানেই একটি সুন্দর গল্পের যথাযথ উপস্থাপন।
দর্শকের সেই মনের খোরাক জোগাতে নতুন একটি টেলিফিল্মে অভিনয় করছেন বরেণ্য এই মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। আসছে ঈদে আফজাল হোসেনকে নিয়ে এনটিভির জন্য বিশেষ একটি টেলিফিল্ম পরিচালনা করেছেন চয়নিকা চৌধুরী। ‘আবার হবে দেখা’ শিরোনামের টেলিফিল্মটি রচনা করেছেন ফারিয়া হোসেন। এতে আফজাল হোসেনের সঙ্গে আবারও অভিনয়ের সুযোগ পেলেন বর্তমান সময়ের দর্শকের ‘জাতীয় ফুফু’ হিসেবে খ্যাতি পাওয়া টিভি ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী দীপা খন্দকার। তিনি অভিনয় করেছেন আফজাল হোসেনের স্ত্রীর ভূমিকায়। তাদের ছেলের চরিত্রে অভিনয় করছেন এই প্রজন্মের দর্শকপ্রিয় অভিনেতা প্রান্তর দস্তিদার এবং আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন আইশা খান। গতকাল বৃহস্পতিবার টেলিফিল্মটির শুটিং পর্ব শেষ হয়েছে।
দীর্ঘদিন পর অন্যের পরিচালনায় অভিনয় প্রসঙ্গে আফজাল হোসেন বলেন, ‘অধিকাংশ গল্পের মূল সূত্র একই থাকে, উপস্থাপনার মধ্যে বৈচিত্র্য থাকে। এই টেলিফিল্মটির গল্প চারজন মানুষকে নিয়ে। পাশাপাশি দুটো গল্প এগিয়ে যায়। চয়নিকা অনেক যত্ন করে খুব গুছিয়ে নির্মাণ করে এবং একটা গল্পের উপস্থাপনায় চয়নিকা সৌন্দর্যকে বেশ গুরুত্ব দেয়। আশা করা যায় টেলিফিল্মটি দর্শকের ভালোলাগবে।
দীপা খন্দকার বলেন, ‘আমার অভিনীত প্রথম নাটকের প্রযোজক ছিলেন আফজাল ভাই। সেই হিসেবে আমার অভিনয় জীবনের শুরু থেকেই তিনি আমার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি শুরু থেকেই আমাকে অনুপ্রেরণা দিতেন। এর মধ্যে তার সঙ্গে পরপর দুটি নাটকে অভিনয় করার সুযোগ হলো। তাই ভীষণ ভালো লাগছে। আর চয়ন দিদি যথারীতি সবসময়ের মতো এবারও ভীষণ যত্ন নিয়ে মনের মতো করে এই টেলিফিল্মটি নির্মাণ করেছেন। ভীষণ আশাবাদী আমি এই কাজটি নিয়ে।’
আইশা খান বলেন, ‘প্রথমবারের মতো আফজাল স্যারের সঙ্গে অভিনয় করে অনেক কিছু শিখতে পারছি। তবে স্যারের সঙ্গে আমার অভিনয়ের দৃশ্য বেশি থাকলে অনেক ভালো লাগত। আন্তরিক কৃতজ্ঞতা চয়নিকা দিদির সঙ্গে আমাকে এই টেলিফিল্মে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য।’ আরেক অভিনেতা প্রান্তর বলেন, ‘চয়নিকা দিদির গল্পগুলোতে ইমোশনাল জার্নি পাই, চরিত্রগুলোর মধ্যেও দারুণ বন্ডিংও থাকে। আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই চয়নিকা দিদিকে আমাকে আফজাল স্যারের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিয়ে নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করার জন্য। টেলিফিল্মটি প্রচারের অধীর অপেক্ষায় আছি আামি।’
