উইনিং পর্যায়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সময়ে শিশুর মস্তিষ্ক দ্রুত বৃদ্ধি পায়, নতুন নিউরাল সংযোগ তৈরি হয় এবং পুষ্টির ঘাটতি হলে তা স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ সময় শিশুর জন্য উপযুক্ত ও পুষ্টিকর খাবার নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি।
উইনিং সময়ে কিছু খাবার শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে বিশেষভাবে সহায়ক। যেমন- ডিমের কুসুম কোলিনসমৃদ্ধ, যা স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উৎস, যা মস্তিষ্কের কোষ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সবুজ শাকসবজি আয়রন ও ফোলেটসমৃদ্ধ, যা মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করে। ফলমূল প্রাকৃতিক গ্লুকোজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে, যা মস্তিষ্ককে শক্তি জোগায়। এছাড়া ডাল ও খিঁচুড়ি প্রোটিন ও আয়রনের ভালো উৎস, যা শিশুর সামগ্রিক বিকাশে সহায়ক।
উইনিং শুরু করার ক্ষেত্রে ছয় মাস বয়সে প্রথমে পাতলা ও সহজপাচ্য খাবার দেওয়া উচিত। যেমন- ভাতের মাড়, পাতলা খিঁচুড়ি, ফলের পিউরি বা নরম ভাত। এরপর ধীরে ধীরে ৭-৮ মাস বয়সে ডিমের কুসুম ও সবজি পেস্ট এবং ৯-১২ মাস বয়সে মাছ, ডাল ও অন্যান্য নরম খাবার যুক্ত করা যেতে পারে। নতুন খাবার একসঙ্গে না দিয়ে ধীরে ধীরে পরিচয় করানো উচিত, যাতে কোনো অ্যালার্জি হলে তা সহজে শনাক্ত করা যায়।
শিশুর খাবারের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। এক বছরের আগে খাবারে অতিরিক্ত লবণ ও চিনি ব্যবহার করা উচিত নয়। এক বছর বয়স পর্যন্ত শক্ত খাবার না দিয়ে নরম ও সহজপাচ্য খাবারই দেওয়া ভালো। পাশাপাশি বুকের দুধ নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
শিশুর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জোর করে না খাইয়ে ধৈর্যের সঙ্গে নতুন খাবারের সঙ্গে পরিচয় করানো এবং আকর্ষণীয়ভাবে পরিবেশন করলে শিশুর খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ে।
সবশেষে বলা যায়, উইনিং সময় থেকেই সঠিক ব্রেইন ফুড প্রদান একটি শিশুর সুস্থ মস্তিষ্ক গঠনের মূলভিত্তি। তাই সচেতন অভিভাবক হিসেবে শুরু থেকেই পুষ্টিকর খাবারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আজকের সঠিক পুষ্টিই আগামী দিনের বুদ্ধিমান ও সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারে।
লেখক : পুষ্টিবিদ, আলোক হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা
