পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) খাতে ৩ লাখ কোটি টাকার মধ্যে ১০ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা কৃষি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকার ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যে কাজ করছে। ২০৩৫ সালের মধ্যেই সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বাংলাদেশে কৃষির টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে উত্তরণে কাজ করছে সরকার। কৃষির রূপান্তরের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের নানামুখী সংকট উত্তরণেও কাজ করা হবে।
তিনি বলেন, কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে হলে জমি, উৎপাদন ও বিপণন— এই তিনটি খাতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ না থাকায় বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য নষ্ট হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, পশুর ভ্যাকসিন আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পোল্ট্রি খাতে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কোনোভাবেই করতে দেওয়া হবে না।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, মাঠপর্যায় থেকে ধান কেনার বর্তমান নীতির কারণে সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনতে পারছে না। ফলে কৃষক ন্যায্য দাম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন এবং এর সুযোগ নিচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা। পণ্যের চাহিদা সম্পর্কে উৎপাদনকারীরা সঠিক ধারণা না থাকায় যেমন সমস্যা তৈরি হচ্ছে, তেমনি ভোক্তারাও ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে পারছেন না। কৃষির মূল সমস্যা পরিকল্পনায়। কৃষকদের সহায়তায় সরকার কয়েক হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যাতে কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান।
