ভারত পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে তৈরি হওয়া সংকটে আইসিসির সম্ভাব্য ক্ষতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। এই আর্থিক ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বাংলাদেশ, পাকিস্তান। একই ঝুঁকিতে পড়তে পারে শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ডও।
আইসিসির সম্প্রচার স্বত্ব চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে সংস্থাটির আয় হওয়ার কথা প্রায় ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। কিন্তু পাকিস্তান যদি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলে, তাহলে এই আয়ের বড় অংশ ঝুঁকিতে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত পাকিস্তান ম্যাচ মাঠে গড়াতে ব্যর্থ হলে জিও হটস্টার আগামী চক্রে আইসিসির সঙ্গে সম্প্রচার স্বত্বের চুক্তি নবায়ন নাও করতে পারে। ২০২৩ সালে জিও হটস্টার ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, বাংলাদেশি টাকায় ৩৬ হাজার ৭২৯ কোটি টাকায় এই স্বত্ব কিনেছিল। যেখানে ভারত পাকিস্তান ম্যাচ ছিল বড় আকর্ষণ।
আইসিসির অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, শুধু এই এক ম্যাচ থেকেই প্রায় ২০০ কোটি রুপি আয় হয়, যা প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের সমমূল্য, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।
সংকটের শুরু বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে। নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। এরপর বাংলাদেশ সরকার বা বোর্ডের সবুজ সংকেত ছাড়াই আইসিসি টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয়। এর প্রতিবাদে পাকিস্তান সরকার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আগেই নিশ্চিত করেছেন, শাহীন শাহ আফ্রিদি, বাবর আজমরা ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবেন না। অথচ আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ আয়োজন করতে মরিয়া আইসিসি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইসিসির আয় কমে গেলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসবে বাংলাদেশ, পাকিস্তানের মতো বোর্ডে, যাদের বড় অংশের রাজস্ব আসে আইসিসির বণ্টন থেকে। একই পরিস্থিতিতে পড়বে শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড। বিপরীতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ থেকে বড় অঙ্কের আয় করতে পারায় ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ভারত পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে তৈরি এই সংকট এখন আর শুধু একটি ম্যাচ নয়, এটি বিশ্ব ক্রিকেটের আর্থিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
