রাজনীতিতে আর বেশি জড়াতে চান না বলে জানিয়েছেন টলিউড সুপারস্টার ও তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার সদস্য দেব। পশ্চিমবঙ্গে সদ্য অনুষ্ঠিত বিধানসভার নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর এমনটি জানিয়েছেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়কে স্বাগত জানিয়ে দেব প্রত্যাশা করেছের, তারা চলচ্চিত্র জগতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করবে না।
তিনি বললেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিতে আর কেউ কাউকে ব্যান (নিষিদ্ধ) করতে পারবে না। প্রযোজকদের ওপরে নিয়মের বোঝা চাপাতে পারবে না। সুষ্ঠুভাবে কাজ হবে। কাজের পরিমাণ বাড়বে। বাইরে থেকেও কাজ আসবে। যদি তৃণমূল কংগ্রেসের করা ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’
তবে কি দেব ফেডারেশনের (টলিউড সংশ্লিষ্ট সংগঠন) সভাপতি হচ্ছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আর রাজনীতিতে বেশি জড়াতে চাই না। আগের মতো মন দিয়ে অভিনয়টাই করতে চাই। এটাই বরাবর করে এসেছি।’
দেব বলেন, ‘বরাবর ইন্ডাস্ট্রির মঙ্গল চেয়েছি। ইন্ডাস্ট্রির মঙ্গল করার চেষ্টা করেছি। নির্বাচনের অনেক আগে থেকে আমার লড়াই শুরু। ভাল লাগছে, সেই লড়াই অবশেষে সফল হল। যিনি বা যারা ইন্ডাস্ট্রির ভালো চাইবেন, নেপথ্যে থেকে আমি সব সময়ে তাদের পাশে।’
বিজেপিতে যোগদানের বিষয়ে চলা গুঞ্জন সম্পর্কে টলিউডের এ সুপারস্টার বলেন, ‘এসব কথা কারা ছড়ায়? মনে হয়, এই ধরনের রাজনীতিতে দেব বিশ্বাসী?’
তিনি বলেন, ‘রাজনীতি না করলে জীবনধারণ করতে পারব না, এ রকম অবস্থা তো আমার নয়। আমি তো রাজনীতি করতেই চাইনি। দিদি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে রাজনীতিতে এসেছি। ফলে, রাজনীতি না করলে আমার দিন চলবে না, এ রকম যারা ভাবছেন, তারা ভুল।’
এই প্রসঙ্গে দেব মনে করিয়েছেন বিজেপি-সিপিআই(এম)-এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মিঠুন চক্রবর্তী, রূপা গাঙ্গুলি, রুদ্রনীল ঘোষ, সোহিনী সরকার, অনির্বাণ ভট্টাচার্যের সঙ্গে তার কাজের কথা। তিনি বলেন, ‘মিঠুনদা আর আমার ছবি ‘‘প্রজাপতি’’ নন্দনে (কলকাতার নামকরা একটি সিনেমা হল) আটকে দেওয়া হয়েছিল। ওই দিনই ঘোষণা করেছিলাম, মিঠুনদাকে নিয়ে ‘‘প্রজাপতি ২’’ করব। একইভাবে রুপাদি, রুদ্র, সোহিনী, অনির্বাণ ব্যান ছিলেন। একমাত্র আমি প্রত্যেককে নিয়ে কাজ করেছি। কারণ, আগে আমি অভিনেতা, টলিউডের অংশ। পরে রাজনীতিবিদ।’
আরজি কর-কাণ্ডে প্রতিবাদ জানিয়ে কাজ পাচ্ছিলেন না সোহিনী। তখন দেব তাঁর ছবি ‘রঘু ডাকাত’-এ অন্যতম নায়িকা হিসাবে বাছেন তাকে। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে যখন প্রচণ্ড ব্যস্ত পশ্চিমবঙ্গ, তারই মধ্যে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘দেশু ৭’ ছবিতে অনির্বাণকে নেবেন। তার দাবি, ‘আমি কোনো দিন টলিউডে রাজনীতি করিনি। সে কথা ইন্ডাস্ট্রির প্রত্যেকে জানে।’
