দরজায় কড়া নাড়ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত বৈশ্বিক এ আসর দেখার সুযোগ না–ও পেতে পারেন ভারত ও চীনের দর্শকরা। বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে জটিলতায় পড়েছে ভারত ও চীন। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এই জটিলতা না কাটলে বিশ্বকাপ দেখা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ মানুষ।
সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে ভারতের কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফিফার চুক্তির বিষয়টি আলোর মুখ দেখেনি। রিলায়েন্স ইন্ড্রাস্ট্রিজ এবং দ্য ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানির যৌথ উদ্যোগ প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছি বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে। তবে এই প্রস্তাব ফিফার মনঃপুত হয়নি। অন্যদিকে সনি গ্রুপ কর্পোরেশন এই আলোচনায় অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত প্রস্তাব দেয়নি।
চীনের কোনো সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানও এখনো ফিফার সঙ্গে চুক্তি করতে পারেনি। বিশ্বকাপের আগের আসরগুলোতে, বিশেষ করে ২০১৮ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপের আগেই দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) সম্প্রচার স্বত্ব নিশ্চিত করে প্রচারণা শুরু করেছিল। এবারের প্রেক্ষাপট পুরো ভিন্ন।
ফিফা জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বিশ্বের ১৭৫ টিরও বেশি অঞ্চলে সম্প্রচার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভারত ও চীনের বিষয়ে আলোচনা এখনো চলমান। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ বিশ্বকাপে বৈশ্বিক টিভি দর্শকের মধ্যে চীনের অংশ ছিল ১৭.৭% এবং ভারতের ২.৯ %। পাশাপাশি ডিজিটাল স্ট্রিমিংয়ে এই দুই দেশের সম্মিলিত অংশ ছিল ২২.৬ %।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় এবারের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারতীয় সময় অনুযায়ী গভীর রাতে হওয়ায় দর্শকসংখ্যা কমতে পারে। ভারতে ক্রিকেটের তুলনায় ফুটবলের বাণিজ্যিক আকর্ষণ তুলনামূলকভাবে কম। আগামী ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ। হাতে সময় কম থাকায় দ্রুত চুক্তি চূড়ান্ত, সম্প্রচার অবকাঠামো প্রস্তুত এবং বিজ্ঞাপন বাজার সক্রিয় করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সংশ্লিষ্টদের জন্য।
বিজ্ঞাপন সংস্থা ডেন্টসু ইন্ডিয়ার স্পোর্টস বিভাগের পার্টনার রোহিত পোতফোদের বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে হাতে সময় খুব কম আছে। তাই বলে এটাকে অচলাবস্থা বলা যাবে না। বরং দাবার শেষ পর্যায়ের মতো—আর কয়েকটি চাল বাকি।’
ভারতের জনসংখ্যা ১.৪৭ বিলিয়ন। অন্যদিকে চীনের জনসংখ্যা ১.৪২ বিলিয়ন। এই দুই দেশের মোট জনসংখ্যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ। বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে জটিলতা না কাটলে খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন দুই দেশের দর্শকরা।
