ক্রিস্টোফার নোলানের আগামী মহাকাব্যিক সিনেমা ‘দ্য ওডিসি’-তে অভিনয়ের জন্য নিজের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’-র শুটিং পিছিয়ে দিতে সনি পিকচার্সের শীর্ষ কর্মকর্তা টম রথম্যানকে ফোন করেছিলেন হলিউড তারকা টম হল্যান্ড।
সম্প্রতি ‘জিকিউ’ সাময়িকীর কভার স্টোরিতে এই তথ্য ফাঁস করে অভিনেতা জানিয়েছেন, সনিপ্রধানের সঙ্গে সেই ফোনালাপটি ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম একটি ‘অস্বস্তিকর কথোপকথন’। ক্রিস্টোফার নোলান যখন হল্যান্ডকে ওডেসিয়াসের ছেলে টেলেমেকাসের চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন, তখন দুটি সিনেমারই শুটিং শুরুর তারিখ ছিল একদম এক।
টম হল্যান্ড সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি নোলানকে বলেছিলেন যে তিনি সিনেমাটি করতে চান, তবে এর জন্য তাকে সনি পিকচার্সকে ফোন করে একটি অত্যন্ত অস্বস্তিকর আলোচনা সারতে হবে। শেষ পর্যন্ত টম হল্যান্ড এবং পরিচালক নোলানের প্রতি সম্মান রেখে সনি পিকচার্স তাদের ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিনেমার শুটিং পিছিয়ে দিতে রাজি হয়। হল্যান্ডের মতে, সনি যে এই প্রস্তাব সানন্দে মেনে নিয়েছিল তার অন্যতম কারণ ইন্ডাস্ট্রিতে নোলানের নিয়মানুবর্তিতার খ্যাতি। নোলান নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করে উল্টো ৯ দিন আগেই শুটিং শেষ করেন। অন্য কোনো পরিচালক হলে সনি হয়তো এত সহজে রাজি হতো না বলে মনে করেন হল্যান্ড।
তবে স্পাইডার-ম্যানের শুটিং পিছিয়ে যাওয়াটা উল্টো মার্ভেলের এই সিনেমার জন্যই ‘শাপেবর’ হয়েছিল। কারণ এই বাড়তি সময় পাওয়ার ফলেই ‘সাং-চি’ খ্যাত নির্মাতা ডেসটিন ড্যানিয়েল ক্রেটনকে ‘স্পাইডার-ম্যান ৪’-এর পরিচালক হিসেবে চুক্তিবদ্ধ করা সম্ভব হয়েছে। হল্যান্ডের ভাষায়, ‘দ্য ওডিসি’ একপ্রকার স্পাইডার-ম্যান সিনেমাটিকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। শুটিং না পেছালে ডেসটিনকে পাওয়া যেত না এবং চিত্রনাট্য নিয়ে ছয় মাস কাজ করার সুযোগও মিলত না। শুরুতে সনি পিকচার্সের জন্য এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া কিছুটা কঠিন হলেও, এখন তারা এই পরিবর্তনের জন্য কৃতজ্ঞ।
ক্রিস্টোফার নোলানের কাজের ধরন দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে হল্যান্ড মার্ভেলের সেটেও নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। তিনি জানান, নোলানের কাছ থেকে শেখার পর তিনি স্পাইডার-ম্যানের সেটে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কেবল স্পাইডার-ম্যান নাম ভাঙিয়ে প্রচুর টাকা আয় করার জন্য তারা এই সিনেমা বানাবেন না; বরং সিনেমাটি বানানোর সুনির্দিষ্ট কারণ ও গল্প থাকতে হবে। সিনেমার কাজের ক্ষেত্রেও তিনি প্রযোজক অ্যামি প্যাসকাল ও রেচেল ও’কনরকে ফোন করে নোলানের কর্মপদ্ধতির উদাহরণ দিয়ে সেভাবে কাজ করার তাগিদ দিতেন।
আগামী জুলাই মাসে ব্যাক-টু-ব্যাক মুক্তি পেতে যাচ্ছে হল্যান্ডের এই দুটি বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা। ১৭ জুলাই প্রেক্ষাগৃহে আসবে নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ এবং তার ঠিক দুই সপ্তাহ পর ৩১ জুলাই মুক্তি পাবে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। এই দুটি বড় সিনেমার মুক্তিকে নিজের জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে মনে করছেন এই তরুণ অভিনেতা।
