টয়লেটে ১০ মাস বন্দি গৃহবধূ, কাঁচা চাল খাইয়ে শ্বশুরবাড়ির পৈশাচিক নির্যাতন

- Advertisements -

ভারতের উত্তরাখণ্ডের দেহরাদুনে পারিবারিক সহিংসতার এক শিউরে ওঠার মতো ঘটনা সামনে এসেছে। এক গৃহবধূকে টানা ১০ মাস ধরে ঘরের একটি কক্ষে এবং টয়লেটে বন্দি করে রেখে শ্বশুরবাড়ির লোকজন অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ওই নারীর বাবার করা পুলিশি অভিযোগ অনুযায়ী, এই দীর্ঘ সময়ে তাকে কেবল কাঁচা চাল, পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচ খেতে দেওয়া হতো এবং তার ওপর চালানো হতো চরম শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন। এই নৃশংস ঘটনায় ওই নারীর বাবা সেলাকুই থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে নির্যাতিতার স্বামী রাহুল খাণ্ডুরী এবং তার বাবা-মাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

Advertisements

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে রাহুলের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে হয় এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারা যমজ সন্তানের বাবা-মা হন। স্বামী দিল্লিতে চাকরির সুবাদে বাইরে থাকলেও স্ত্রী দেহরাদুনে তার শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গেই থাকতেন। নির্যাতিতার বাবার অভিযোগ, গত বছরের জুলাই মাস থেকে তার মেয়েকে একটি ঘরে এবং টয়লেটে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। দিল্লিতে কর্মরত স্বামী যখনই ছুটিতে বাড়ি ফিরতেন, তিনিও মেয়েটির খোঁজখবর নেওয়ার বদলে উল্টো মারধর ও মানসিক নির্যাতন করতেন। ১০ মাসের এই ধারাবাহিক পৈশাচিক অত্যাচারে মেয়েটির মানসিক স্বাস্থ্য ভেঙে পড়েছে।

থানায় দায়ের করা এজাহারে আরও বলা হয়েছে, গৃহবধূকে লোহার রড, ড্রেনপাইপ, চেয়ার এবং ফ্লোর ওয়াইপার দিয়ে নির্মমভাবে পেটানো হতো। এমনকি তার গোপনাঙ্গে লাঠি ও বোতল দিয়ে মারাত্মক আঘাত করা হয়েছে এবং মাথা থেকে চুল টেনে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এই পুরো সময়ে মেয়েটিকে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বা ফোনে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এমনকি তার বাবা-মাকে তাদের নাতি-নাতনিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না। মেয়ের বাড়ির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা প্রতিবারই দাবি করত যে, সে হয়তো ঘুমাচ্ছে নয়তো গোসল করছে।

Advertisements

ভুক্তভোগীর বাবা আক্ষেপ করে বলেন, বাস্তবে তাদের মেয়েকে সকাল ৯টা-১০টা থেকেই ঘরের ভেতর বা টয়লেটে তালাবদ্ধ করে রাখা হতো এবং দিন-রাত অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। একজন মানুষের ন্যূনতম যে সম্মান প্রাপ্য, তা থেকেও তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। মেয়ের খোঁজে শ্বশুরবাড়িতে গেলে তাদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হতো না এবং উল্টো তাদের ওপরই মেয়েটির সংসার ভাঙার দায় চাপিয়ে আরও ১৫ দিন পর আসতে বলা হতো। শেষ পর্যন্ত পুরো বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/ac0b
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন