এটি একটি সাধারণ শারীরিক ও মানসিক সমস্যা, যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। লিঙ্গে পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ না হওয়া, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, মানসিক চাপ বা উদ্বেগ- এসবই ইরেকটাইল ডিসফাংশনের প্রধান কারণ।
তবে সঠিক চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণযোগ্য বা সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। তাই সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে কেবল যৌনজীবনের মানই উন্নত হয় না, আত্মবিশ্বাসও বাড়ে এবং দাম্পত্য জীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ইরেকটাইল ডিসফাংশনকে সাধারণত কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করা হয়। প্রাথমিক নপুংসকতা হলো এমন অবস্থা, যেখানে ব্যক্তি কখনই স্বাভাবিকভাবে ইরেকশন অর্জন করতে পারেননি; এটি জন্মগত বা কাঠামোগত ত্রুটির কারণে হতে পারে। সেকেন্ডারি নপুংসকতায় ব্যক্তি আগে স্বাভাবিক ইরেকশন অর্জন করতে পারলেও বর্তমানে তা করতে ব্যর্থ হন। পরিস্থিতিগত নপুংসকতায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে, যেমন একাকী অবস্থায় ইরেকশন সম্ভব হলেও সঙ্গীর সঙ্গে তা সম্ভব হয় না, যা সাধারণত মানসিক কারণের সঙ্গে যুক্ত। আংশিক নপুংসকতায় ইরেকশন হয়, তবে তা পর্যাপ্ত বা স্থায়ী নয়। সম্পূর্ণ নপুংসকতায় কখনই ইরেকশন অর্জিত হয় না।
ইরেকশন একটি জটিল নিউরোভাসকুলার প্রক্রিয়া। স্নায়ু ও রক্তনালির সমন্বিত কাজ প্রয়োজন এখানে। যৌন উত্তেজনার সময় স্নায়ু থেকে সংকেত পাঠানো হয়। আর এ কারণে লিঙ্গে রক্তপ্রবাহ বাড়তে থাকে। এই রক্ত লিঙ্গের ভেতরের দুটি স্পঞ্জের মতো গঠন- কর্পোরা ক্যাভেরনোসায় জমা হয়ে লিঙ্গকে দৃঢ় ও স্ফীত করে। এই প্রক্রিয়ার যেকোনো ধাপে সমস্যা দেখা দিলে ইরেকটাইল ডিসফাংশন হতে পারে।
এর ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ ও উদ্বেগ, ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস, স্থুলতা, প্রোস্টেটের অস্ত্রোপচার বা রেডিয়েশন থেরাপি, এবং ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগ, যা স্নায়ু ও রক্তনালির ক্ষতি করে।
চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার কারণ ও তীব্রতার ওপর। জীবনযাত্রার পরিবর্তন, মানসিক সহায়তা এবং প্রয়োজনে ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। প্রচলিত ওষুধের মধ্যে সিলডেনাফিল, টাডালাফিল, ভারডেনাফিল ও অ্যাভানাফিল উল্লেখযোগ্য। এসব ওষুধ শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডের কার্যকারিতা বাড়িয়ে লিঙ্গের পেশি শিথিল করে এবং রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে তোলে। এ কারণে ইরেকশন সহজ হয়।
তবে এসব ওষুধ অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করা উচিত। নিজে থেকে সেবন করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। আর এ কারণে গুরুতর হৃদরোগজনিত জটিলতাও ঘটতে পারে।
লেখক : চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ
চেম্বার : আলোক হেলথ কেয়ার, মিরপুর-পল্লবী শাখা, ঢাকা
