ইফতারে একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়া হয়। একেক খাবারের একেক গুণ রয়েছে। তবে ইফতারের টেবিলে যদি পাকা পেঁপে রাখেন, তাহলে অন্যান্য খাবার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। পেঁপেতে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মতো উপকারি সব উপাদান আছে। পেঁপের সঙ্গে যা ইচ্ছে তা খাওয়া যাবে না। এমন কিছু খাবার রয়েছে যা পেঁপের সঙ্গে মিলিয়ে খেলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে।
কাঁচা ও পাকা পেঁপে
অনেকেই ফল দিয়ে ইফতার করতে পছন্দ করেন। তাই কাঁচা ও পাকা পেঁপে দুই-ই একসঙ্গে খান। এটি ঠিক নয়। কাঁচা পেঁপেতে ল্যাটেক্সের পরিমাণ পাকা পেঁপের তুলনায় বেশি থাকে। দুই ধরনের পেঁপে একসঙ্গে খেলে কাঁচা পেঁপেতে থাকা ল্যাটেক্স গলা ও মুখে জ্বালাপোড়া ভাব তৈরি করতে পারে। যাদের ল্যাটেক্স অ্যালার্জি রয়েছে তাদের সমস্যা বেশি হতে পারে।
ঝাল মশলাদার খাবার
ইফতারে ভাজাপোড়া ও ঝাল মশলাদার খাবার খেলে পেঁপে না খাওয়াই ভালো। আর পেঁপে খেলে ঝাল মশলাদার খাবার থেকে বিরত থাকুন। বেশি ঝালযুক্ত খাবার খেলে অনেকসময় এমনিতেই পেটে সমস্যা দেখা দেয়। এর সঙ্গে পেঁপে যুক্ত করলে সমস্যাটি প্রকট হতে পারে। বিশেষ করে যারা হজমের সমস্যায় ভুগছেন, তারা পেঁপের সঙ্গে ঝাল মশলাদার খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
সাইট্রাস জাতীয় ফল
পেঁপের সঙ্গে কমলা, লেবু বা জাম্বুরার মতো ফল খাবেন না। এই ফলগুলোতে ভরপুর ভিটামিন সি থাকে। তাই সাইট্রাস জাতীয় ফল এবং পেঁপে একসঙ্গে খেলে অ্যাসিডিটি হতে পারে। পেটব্যথা, পেটে অস্বস্তি কিংবা ডায়রিয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে। তাই এই দুই ধরনের ফল একসঙ্গে খাবেন না।
চর্বিযুক্ত খাবার
পেঁপের সঙ্গে চর্বিযুক্ত খাবার মিশিয়ে খাওয়া ঠিক নয়। খেলে পেট ফুলে যাওয়া বা বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভাজা খাবার, চর্বিযুক্ত মাংস কিংবা ক্রিমযুক্ত সসের মতো খাবারগুলো হলো উচ্চ চর্বিযুক্ত। এসবের সঙ্গে পেঁপে না খাওয়া ভালো।
দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য
অনেকেই ইফতারে বিভিন্ন ধরনের মিল্কশেক, দুধের তৈরি মিষ্টান্ন খান। পেঁপের সঙ্গে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া উচিত নয়। কেননা পেঁপেতে রয়েছে পাপেইন ও কাইমোপাপেইন নামক এনজাইম, যা দুধকে দই করে ফেলতে পারে। তাই পেঁপের সঙ্গে দুগ্ধজাত কিছু খেলে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে কারো কারো গ্যাস্ট্রিক, পেট ফোলা ভাব, পেটে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
