ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এক বৃদ্ধকে বাঁচাতে গিয়ে চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় নিজেই মর্মান্তিক মৃত্যুবরণ করলো তোফায়েল আহমেদ (২০) নামে এক যুবক। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কসবা রেলওয়ে স্টেশনে এই ঘটনাটি ঘটে।
নিহত তোফায়েল আহমেদ উপজেলার কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আকছিনা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় পরিবার সহ তার সহপাঠীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনই বিকেলের দিকে কসবা রেলস্টেশনে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ঘুরতে আসে। তোফায়েলও বন্ধুদের সঙ্গে স্টেশনে ঘুরতে আসে। সন্ধ্যার দিকে স্টেশনের একপাশে এসে দাঁড়ায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেস। চট্টলা এক্সপ্রেস থেকে নেমে আসা ওই বৃদ্ধ এসে দাঁড়ায় মাঝখানে থাকা লাইনের ওপর। এসময় মাঝখানের লাইন দিয়ে চট্টগ্রাম অভিমুখী দ্রুতগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস ছুটে আসছিলো।
বিষয়টি স্টেশনে ঘুরতে আসা তোফায়েলের নজরে আসে। সে বৃদ্ধকে বাঁচানোর জন্য লাইনের ওপর গিয়ে বৃদ্ধকে সরিয়ে দেয়। কিন্তু ততক্ষণে দ্রুত গতিতে ছুটে আসা সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটি এসে তোফায়েল সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা খেয়ে তোফায়েল ছিটকে অনেকটা দূরে গিয়ে পড়ে। বৃদ্ধকে বাঁচাতে পারলেও নিজেকে রক্ষা করতে পারলো না তোফায়েল। পরে তার সহপাঠী ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কসবা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. হানিফ মিয়া জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রাম অভিমুখী দ্রুতগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস কসবা স্টেশন অতিক্রম করার সময় একজন বৃদ্ধকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় তোফায়েল আহমেদ নামে এক যুবক মারা যায়।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস. এম. শফিকুল ইসলাম বলেন, কসবা রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের ধাক্কায় তোফায়েল আহমেদ নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
