লাল গালিচায় স্বাগত, হাতে ফুল আর পাশে আমেরিকার শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। বুধবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতে এই দৃশ্যই দেখা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীন সফরে এসেছেন এক ডজনেরও বেশি শীর্ষ মার্কিন ব্যবসায়ী নেতা। ট্রাম্প শি জিনপিংয়ের সামনে তাদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেছেন, এরা সবাই চীনকে সম্মান করেন ও মূল্য দেন।
প্রতিনিধিদলে রয়েছেন স্পেসএক্স ও টেসলার ইলোন মাস্ক, অ্যাপলের টিম কুক, গোল্ডম্যান স্যাকসের ডেভিড সলোমন, ব্ল্যাকরকের ল্যারি ফিংক, সিটির জেন ফ্রেজার, ব্ল্যাকস্টোনের স্টিফেন শোয়ার্জম্যান ও বোয়িংয়ের কেলি অরটবার্গ। আলাস্কায় যাত্রাবিরতির সময় বিমানে উঠে চমক দিয়েছেন এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং। এ ছাড়া মেটা, কার্গিল, ভিসা, সিসকো, কোয়ালকম, মাইক্রন, জিই অ্যারোস্পেস, ইলুমিনা ও মাস্টারকার্ডের প্রতিনিধিরাও আছেন।
প্রতিটি সিইও চীনে কী চাইছেন
মাস্ক চীনা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে সোলার প্যানেল তৈরির সরঞ্জাম কিনতে চান, যার মূল্য প্রায় ২৯০ কোটি ডলার। এ ছাড়া চীনে টেসলার ফুল সেলফ-ড্রাইভিং সিস্টেম চালু করতে চীনা নিয়ন্ত্রকদের অনুমোদন চাইছেন তিনি। শাংহাই গিগাফ্যাক্টরিতে ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে টেসলার বিক্রি ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ২ লাখ ৯২ হাজার ৮৭৬টি গাড়িতে পৌঁছেছে।
অ্যাপলের টিম কুক আসছেন এমন এক সময়ে, যখন তিনি সেপ্টেম্বরে ১৫ বছরের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অ্যাপল প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ৬ কোটিরও বেশি আইফোন বিক্রি করে, যার প্রায় ৮০ শতাংশ চীনে তৈরি হয়। এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং চান চীনে এইচ-২০০ চিপ বিক্রির পথ খুলুক। রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার আগে এনভিডিয়া চীনের উন্নত চিপ বাজারের প্রায় ৯৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করত। বোয়িংয়ের সিইও কেলি অরটবার্গ আশাবাদী যে চুক্তিতে বিমান কেনার অর্ডার থাকবে। ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, চীন প্রায় ৫০০টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স, ১০০টি ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৭৭এক্স কেনার কথা ভাবছে।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক হিসাব, মিডটার্মের আগে বড় জয় দরকার
স্বাধীন চীন বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু লিউং বলেন, শীর্ষ মার্কিন সিইওদের উপস্থিতি স্পষ্ট সংকেত দিচ্ছে যে ট্রাম্প কী নিয়ে ঘরে ফিরতে চান। তিনি চান বাজারে প্রবেশাধিকার ও বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি, যা নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনের আগে তার জনপ্রিয়তায় চাপ কমাবে।
চীন কী পেতে চায় এই বৈঠক থেকে
অ্যান্ড্রু লিউং জানান, বিনিময়ে চীন শুল্ক শিথিল বা প্রত্যাহার, চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, উন্নত সেমিকন্ডাক্টরে বেশি সুবিধা এবং যুক্তরাষ্ট্রে চীনা বিনিয়োগের সুযোগ চাইবে। দুই নেতা গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় বৈঠকের সময় এক বছরের শুল্ক যুদ্ধবিরতি ও বিরল খনিজ ধাতু রপ্তানির যে চুক্তি করেছিলেন, তা আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।
