বিদ্রোহীদেন হামলায় মুখে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন সামরিক জান্তা প্রধান জেনারেল আসিনি গোইতা। সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ডিক্রির মাধ্যমে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
মূলত গত সপ্তাহে আত্মঘাতী ট্রাক বোমা হামলায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সাদিও কামারা নিহত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিলেন গোইতা। নতুন এই বিন্যাসে গোইতাকে সহায়তা করবেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওমর দিয়ারা, তাকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
বিগত এক সপ্তাহ ধরে মালি এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট এবং আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জেএনআইএম-এর একটি জোট একযোগে দেশজুড়ে বড় ধরনের আক্রমণ শুরু করলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাজধানী বামাকোর সন্নিকটে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বাসভবনে চালানো সেই হামলায় প্রাণ হারান সাদিও কামারা।
বিশ্লেষকদের মতে, একই সঙ্গে দেশের সভাপতিত্ব এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করার মাধ্যমে গোইতা মূলত নিজের নড়বড়ে হয়ে যাওয়া ক্ষমতাকে পুনরায় সুসংহত করার চেষ্টা করছেন।
বিদ্রোহীদের এই ঝটিকা অভিযানের মুখে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় কৌশলগত শহর কিদাল থেকে মালির সেনাবাহিনী এবং তাদের সহযোগী রুশ বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে রাজধানী বামাকোসহ বেশ কিছু শহর অবরোধ করে রেখেছে বিদ্রোহীরা। এই হামলার জেরে মালির সামরিক সরকারের শক্তি ও সক্ষমতা নিয়ে জনমনে ব্যাপক সংশয় দেখা দিয়েছে।
২০২০ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা গোইতা দেশটিতে স্থিতিশীলতা আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমান পরিস্থিতি উল্টো দিকে মোড় নিচ্ছে।
হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মালির কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক সেনা সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। সামরিক আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় সেনাবাহিনীর ভেতর থেকেই মদদ দেওয়া হয়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মালি তাদের প্রতিবেশী দেশ নাইজার ও বুরকিনা ফাসোর সাথে যৌথ বিমান হামলা শুরু করেছে। এই তিনটি দেশই বর্তমানে সামরিক শাসনাধীন এবং তারা ফ্রান্সের সেনাবাহিনীকে বহিষ্কার করে নিরাপত্তার জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তবে এতসব সামরিক তৎপরতার পরও দেশটির বড় একটি অংশ এখনো সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়ে গেছে।
