পশ্চিম বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গিয়েছে। শনিবার রাজভবনে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ব্রিগেডের মেঠো রাজনীতি থেকে প্রশাসনিক অলিন্দ— সর্বত্রই যখন পরিবর্তনের আবহাওয়া, ঠিক তখনই নিজের মনের আগল খুলে দিলেন জনপ্রিয় টলিউড অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়।
একসময় বিজেপির টিকিটে বিধানসভা ভোটে লড়াই করলেও এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে প্রচারে দেখা গিয়েছিল তাকে। তবে এই বিপুল পালাবদলের পর শ্রাবন্তীর গলায় শোনা গেল এক অন্য সুর। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি ভাগ করে নিতে গিয়ে প্রথমেই ‘অভয়া’র বিচার পাওয়ার আশার কথা জানালেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, এই পরিবর্তনের খবরে প্রথমেই তার মনে ভেসে উঠেছিল আরজি করের নির্যাতিতার মায়ের মুখ। একজন মা হিসেবে তিনি মনে করেন, এবার অন্তত সেই মা বিচার পাবেন এবং জনতাই জনার্দন বলেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।
নির্বাচনের আগে তৃণমূলের হয়ে প্রচার করা নিয়ে যখন চারদিকে আলোচনা চলছে, তখন শ্রাবন্তী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন যে তিনি কোনো দলে যোগ না দিয়েই কেবল একজন শিল্পী হিসেবে প্রচারে গিয়েছিলেন। তার বিস্ফোরক দাবি, শিল্পীদের ওপর অনেকসময় অনেক ধরনের চাপ থাকে এবং সেই চাপের মুখেই তাদের অনেক কাজ করতে হয়।
বর্তমানে শিল্পীদের নিয়ে যে ধরনের কুৎসা ও ট্রোলিং চলছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ বোঝেন না শিল্পীরা ঠিক কী পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলেন। ২০২১ সালে বেহালা পশ্চিমে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে হারার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, পরবর্তীকালে তার প্রতিদ্বন্দ্বী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধার হওয়ায় তার খুব আফসোস হয়েছিল। সেদিন মানুষ তাকে বিশ্বাস করলে তিনি হয়তো এলাকার জন্য ভালো কাজ করতে পারতেন, এমনটাই মনে করেন তিনি। তবে সেই অভিজ্ঞতাই তাকে শিখিয়েছে যে রাজনীতি আসলে তার জায়গা নয়, বরং অভিনেত্রী হিসেবেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য।
বিজেপির এই জয় নিয়ে অভিনেত্রী মনে করেন, গত কয়েক বছরে বিজেপি বাংলাকে আরও গভীরভাবে বুঝতে পেরেছে বলেই মানুষ তাদের গ্রহণ করেছে। আগামী দিনে নতুন সরকারের কাছে তার বিশেষ চাওয়া— রাজ্যের নারী নিরাপত্তা যেন সুনিশ্চিত হয় এবং যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা যেন তাদের প্রাপ্য কাজ পান। বিশেষ করে নিজের এলাকা বেহালার জলযন্ত্রণা ও ট্রাফিক সমস্যার সমাধানের দিকেও নজর দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এদিন ইন্ডাস্ট্রির পুরোনো বন্ধু রুদ্রনীল ঘোষকে শুভেচ্ছা জানাতে ভোলেননি শ্রাবন্তী। সেইসঙ্গে বিনোদনজগতের স্বার্থে তার কাতর আবেদন, টলিউড থেকে যেন লবি বা গ্রুপিজমের সংস্কৃতি মুছে যায়। কোনো শিল্পীকে যেন রাজনৈতিক কারণে কাজ হারাতে না হয় বা ‘ব্যান’ হতে না হয়, বরং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই যেন সকলে মাথা উঁচু করে কাজ করতে পারেন— নতুনের আগমনে এটাই এখন টলিউড সুন্দরীর একমাত্র প্রার্থনা।
