এ কে আজাদ: এস এম হেদায়েত। গীতিকবি। বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় ও কালজয়ী গানের গীতিকার, যিনি মূলত আধুনিক ও রোমান্টিক গানের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। লাকী আখন্দের সুরে হ্যাপী আখন্দের গাওয়া “আবার এলো যে সন্ধ্যা” গানটি তাঁর সবচেয়ে সুবিখ্যাত সৃষ্টি।
এই মেধাবী গীতিকবি এস এম হেদায়েত-এর মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ২০০৪ সালের ১৪ এপ্রিল, ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। মৃত্যুদিবসে তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।
এস এম হেদায়েত ১৯৪৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি, কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার, হেসাখাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মোঃ ইদ্রিস আলী ছিলেন একজন মৌলভী। শৈশবকাল থেকেই এস এম হেদায়েত সঙ্গীত, যাত্রাপালা, নাটক ও থিয়েটারের প্রতি ছিলেন ভিশন আগ্রহী।
১৯৬৭ সালে, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়াকালীন সময়ে নিজের লেখা কিছু গান নিয়ে বিশিষ্ট গীতিকার মাসুদ করিমের সাথে দেখা করেন। মাসুদ করিম তাঁর লেখা গান পছন্দ করেন। অতঃপর গানের তাল, লয়, ছন্দ, আঙ্গিক ইত্যাদি বিষয়ে দুই বছর তাঁর কাছে প্রশিক্ষণ নেন।
১৯৬৯ সালে, এস এম হেদায়েত বেতার ও টিভির গীতিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।
মূলত তিনি আধুনিক ও রোমান্টিক গানের গীতিকার হলেও,
চলচ্চিত্রের জন্যও কিছু গান লিখেছেন। যারমধ্যে- ঘুর্ণিঝড়, ঘুড্ডি, মীরজাফর, রূপনগরের রাজকন্যা, অন্যতম উল্লেখযোগ্য।
এস এম হেদায়েতের লেখা উল্লেখযোগ্য কিছু জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান: একটি মনের আশীষ তুমি….., ঘুম ঘুম ঘুম চোখে দেয় চুম…, আবার এলো যে সন্ধ্যা…., এই নীলমনি হার…, তোমাকে যেন ভুলে না যাই…, নীল নীল শাড়ি…,পাহাড়ি ঝরনা…., ও মাঝি নাও ছাড়িয়া দে…., মাগো ধন্য হলো জীবন আমার…., ফেরারি পাখি…, ঐ আঁকাবাঁকা নদীর ধারে…, এসব কালজয়ী গানসহ অসংখ্য গানের গীতিকার এস এম হেদায়েত।
তাঁর লেখা গান নিয়ে অনেক অডিও ক্যাসেট (এলবাম) বেরিয়েছে। তিনি বাংলাদেশ গীতিকবি সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।
তাঁর লেখা গানগুলো আজও শ্রোতাদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই গীতিকবি’র লেখা মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া কালজয়ী গানগুলো এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
বাংলা গানের ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেগেছেন এই মেধাবী
গীতিকবি। পরিচিতজনদের কাছে পরোপকারি, বন্ধুবৎসল একজন ভালোমনের মানুষ হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন
গীতিকবি এস এম হেদায়েত।
