শরীরে লবণের মাত্রা কমে গেলে কীভাবে বুঝবেন?

- Advertisements -

শরীর সুস্থ রাখতে শুধু ভিটামিন নয়, বিভিন্ন খনিজ উপাদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে অন্যতম হলো সোডিয়াম। সাধারণত প্রতিদিনের খাবারের লবণ থেকেই শরীর সোডিয়াম পায়। শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখা, স্নায়ুর সংকেত আদান-প্রদান এবং পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য সোডিয়াম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

কিন্তু যখন শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়, তখন দেখা দিতে পারে নানা শারীরিক জটিলতা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় হাইপোন্যাট্রেমিয়া । অনেকেই এটিকে ছোটখাটো সমস্যা বলে মনে করলেও, সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

কেন কমে যায় সোডিয়ামের মাত্রা?

লবণের ঘাটতির পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। অতিরিক্ত ঘাম, বমি বা ডায়রিয়ার কারণে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় লবণ ও পানি বেরিয়ে গেলে সোডিয়ামের মাত্রা কমে যেতে পারে।

এছাড়া কিছু মানুষ সুস্থ থাকার জন্য অতিরিক্ত পানি পান করেন। কিন্তু শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পানি পান করলে রক্তে সোডিয়ামের ঘনত্ব কমে যেতে পারে। এটিও হাইপোন্যাট্রেমিয়ার একটি সাধারণ কারণ।

কিছু ওষুধ, বিশেষ করে ডাইইউরেটিক বা প্রস্রাব বাড়ানোর ওষুধ, কিডনি ও হরমোনজনিত সমস্যাও সোডিয়ামের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে।

Advertisements

শরীর কী সংকেত দেয়?

শরীরে লবণের মাত্রা কমে গেলে কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা দিতে পারে। শুরুতে বিষয়গুলো খুব সাধারণ মনে হলেও এগুলো অবহেলা করা ঠিক নয়।

মাথাব্যথা ও দুর্বলতা

সোডিয়াম কমে গেলে শরীরে ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে। অনেকের মাথা ভার বা মাথাব্যথাও হয়।

মাথা ঘোরা ও বমিভাব

হঠাৎ দাঁড়ালে মাথা ঘোরা, বমিভাব বা অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষ করে গরমে অতিরিক্ত ঘাম হলে এই সমস্যা বাড়তে পারে।

পেশিতে টান বা ক্র্যাম্প

সোডিয়াম শরীরের পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতার সঙ্গে জড়িত। তাই এর ঘাটতি হলে হাত-পা বা পেশিতে টান ধরতে পারে।

মানসিক বিভ্রান্তি

অবস্থা গুরুতর হলে ব্যক্তি বিভ্রান্ত হয়ে যেতে পারেন। মনোযোগ কমে যাওয়া, আচরণে পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক ক্লান্তিও দেখা দিতে পারে।

খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

সোডিয়ামের মাত্রা খুব কমে গেলে খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা গুরুতর স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

হার্টের ওপর প্রভাব পড়ে কি?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোডিয়ামের অভাব সরাসরি হার্ট অ্যাটাকের কারণ না হলেও এটি হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে অনিয়মিত হার্টবিট বা দুর্বল অনুভূতি দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা থাকলে অবহেলা করা উচিত নয়।

Advertisements

গরমকালে কেন ঝুঁকি বাড়ে?

গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। ফলে শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। যারা বাইরে কাজ করেন বা দীর্ঘ সময় রোদে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যেতে পারে।

এ কারণে গরমের সময় শুধু পানি নয়, ওআরএস, ডাবের পানি বা লেবুর শরবতের মতো ইলেক্ট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় পান করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?

  • সোডিয়ামের ঘাটতি এড়াতে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চলা জরুরি-
  • সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন
  • অতিরিক্ত পানি পান এড়িয়ে চলুন
  • গরমে অতিরিক্ত ঘাম হলে ওআরএস বা ইলেক্ট্রোলাইটযুক্ত পানীয় পান করুন
  • দীর্ঘদিন বমি বা ডায়রিয়া হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন করবেন না

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি বারবার মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, বমিভাব, পেশিতে টান বা বিভ্রান্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ সময়মতো চিকিৎসা না নিলে হাইপোন্যাট্রেমিয়া গুরুতর রূপ নিতে পারে।

সোডিয়ামের অভাব কোনো ছোটখাটো বিষয় নয়। শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখতে এই খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শরীরের ছোট ছোট সংকেতকে অবহেলা না করে সচেতন থাকা জরুরি। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত পানি পান এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারার মাধ্যমেই সহজে এই সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/ffjr
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন