তীব্র খরার কারণে উত্তর কোরিয়ায় কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে। এর ফলে দেশটিতে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছে, দেশজুড়ে ‘অস্বাভাবিক’ খরা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি।
এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষিশ্রমিকরা মৌসুমের শুরুর ফসল রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
কেসিএনএ জানিয়েছে, খরা মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন শহর ও জেলায় জলাধার ও সেচব্যবস্থার গেট মেরামত করা হচ্ছে। পাশাপাশি গম ও বার্লির মতো গুরুত্বপূর্ণ ফসলের খরা সহনশীলতা বাড়াতে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, দেশটির প্রধানমন্ত্রী পাক থে সং দক্ষিণ পিয়ংআন ও উত্তর হোয়াংহে প্রদেশের বিভিন্ন খামার পরিদর্শন করেছেন। তিনি খরার ক্ষতি কমাতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং কৃষকদের সব ধরনের পানির উৎস চিহ্নিত করে কার্যকরভাবে ব্যবহারের নির্দেশ দেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ বছরের ফসল উৎপাদন অনেকটাই নির্ভর করছে খরা মোকাবিলার ওপর।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। চরম আবহাওয়া, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, সীমান্ত বন্ধ এবং কৃষি উপকরণের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষ প্রতিনিধি এলিজাবেথ স্যালমন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সতর্ক করেছিলেন, দেশটিতে খাদ্য সংকট একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার তথ্যানুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার লাখো মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে এবং খরা ও বন্যার মতো দুর্যোগে তারা অত্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খরা ও তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির মাত্রা ও ঘনত্ব বাড়ছে। গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার গ্যাংনেউং অঞ্চল খরার কবলে পড়ে এবং দেশটি রেকর্ড গরমের সম্মুখীন হয়। উত্তর ও দক্ষিণ—উভয় কোরিয়াতেই সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে উষ্ণ জুন মাস রেকর্ড করা হয়েছে।
