মৃত্যুর হাজারো বছর পরও মমিতে সক্রিয় জীবাণু!

- Advertisements -

হাজার হাজার বছর আগে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির মমির ভেতরে এখনো সক্রিয় রয়েছে ক্ষুদ্র জীবের একটি জগৎ। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপের সবচেয়ে বিখ্যাত মমি ‘ওৎজি দ্য আইসম্যান’-এর শরীরে প্রাগৈতিহাসিক অন্ত্রের জীবাণু ও শীতল পরিবেশে টিকে থাকা খামিরজাতীয় অণুজীব এখনো সক্রিয় রয়েছে।

প্রায় ৫ হাজার ৩০০ বছর আগে ইতালির আল্পস পর্বতমালায় একটি তীরের আঘাতে নিহত হন ওৎজি। তাকে দীর্ঘদিন ধরে মাইনাস ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ধারণা ছিল, এই পরিবেশে সব ধরনের জৈবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা ভিন্ন তথ্য দিয়েছে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘মাইক্রোবায়োম’ সাময়িকীতে। গবেষক মোহামেদ সারহান ও তার দল মমির ত্বক, অভ্যন্তরীণ টিস্যু এবং গলে যাওয়া বরফের পানি পরীক্ষা করে এক প্রাচীন জীববৈচিত্র্যের সন্ধান পান।

Advertisements

গবেষণায় দেখা গেছে, ওৎজির অন্ত্রে থাকা সক্রিয় জীবাণুগুলো তার শেষ খাবারের সঙ্গে মিল খুঁজে দেয়। সেই খাবারে ছিল চর্বিযুক্ত বন্য প্রাণীর মাংস, প্রাচীন শস্য এবং বিষাক্ত ফার্ন উদ্ভিদ।

গবেষকেরা আরও কয়েকটি বিরল জীবাণুর সন্ধান পেয়েছেন, যেগুলো আধুনিক শহুরে মানুষের শরীরে আর পাওয়া যায় না। তবে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু বিচ্ছিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে এখনো এগুলোর অস্তিত্ব রয়েছে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, কিছু খামিরজাতীয় অণুজীব গত নয় বছরে সংখ্যায় বেড়েছে। গবেষকদের মতে, এগুলো মমি সংরক্ষণে ব্যবহৃত জীবাণুনাশক রাসায়নিক পদার্থ খেয়ে বেঁচে থাকার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

Advertisements

এই আবিষ্কার নতুন প্রশ্নও তুলেছে। যদি এসব প্রাচীন অণুজীব হিমশীতল পরিবেশে এবং আধুনিক জীবাণুনাশক ব্যবহার সত্ত্বেও টিকে থাকতে পারে, তবে বিশ্বের জাদুঘরগুলো কীভাবে প্রাচীন নিদর্শনগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখবে?

গবেষকদের মতে, ওৎজির জীবিত অণুজীবসমূহ মানবস্বাস্থ্য, রোগের বিবর্তন এবং প্রাচীন মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/bykf
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন