যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে বড় ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সোফাই স্টেডিয়ামের প্রায় ২ হাজার কর্মী ধর্মঘটের ডাক দিতে যাচ্ছেন।
স্টেডিয়ামের হসপিটালিটি কর্মীরা, যাদের প্রতিনিধিত্ব করছে ইউনাইট হিয়ার লোকাল ১১ নামের শ্রমিক সংগঠন, তারা বেতন বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন। তাদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো আসন্ন টুর্নামেন্ট চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার উপস্থিতি।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আগেই জানিয়েছিল, ওই সংস্থার কর্মীরা স্টেডিয়ামে শুধু নিরাপত্তা সহায়তার জন্য থাকবে এবং মূলত জালিয়াতি ও পাচার রোধে কাজ করবে। তবে শ্রমিকদের আশঙ্কা, এতে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
একজন কর্মী বলেন, ‘মূল উদ্বেগ হলো এই সংস্থার উপস্থিতি। আমরা অনেকেই ভয়ে আছি, কারণ আমাদের সহকর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের কাজের ভিসায় থাকা মানুষও আছেন।’
সংগঠনটির দাবি, তাদের ৯৬ শতাংশ সদস্য ধর্মঘটের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। যদিও ধর্মঘট এখনই শুরু হয়নি, তবে সমঝোতা না হলে বিশ্বকাপ শুরুর আগে যে কোনো সময় এটি কার্যকর হতে পারে।
স্টেডিয়ামের হসপিটালিটি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে এবং আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে শ্রমিকরা অতিরিক্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাচ্ছেন।
আসন্ন বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে নানা বিতর্ক দেখা দিয়েছে। টিকিটের উচ্চ মূল্য, যাতায়াত ব্যয় বৃদ্ধি, অভিবাসন উদ্বেগ এবং বয়কটের আলোচনা—সব মিলিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই সমালোচনার মুখে পড়েছে আয়োজন।
বিশ্বকাপের অন্যতম ভেন্যু এই স্টেডিয়ামে মোট আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এখানে প্রায় ৭০ হাজার দর্শক উপস্থিত থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শ্রমিক ধর্মঘট হলে এসব ম্যাচ আয়োজন নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।
শ্রমিক সংগঠনের সহ-সভাপতি বলেন, শ্রমিকরা ন্যায্য বেতন না পেলে এবং নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকলে এমন বড় আয়োজনের অর্থ কী—এই প্রশ্ন এখন উঠছে।
