English

24 C
Dhaka
মঙ্গলবার, মার্চ ১০, ২০২৬
- Advertisement -

খুশকি থেকে মুক্তি পেতে করণীয়

- Advertisements -
ডা. তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী: খুশকি একটি পরিচিত চর্মরোগ, যা মাথার খুলির ত্বকে দেখা যায়। নারী-পুরুষ উভয়েই এ সমস্যায় ভোগেন এবং প্রায় প্রত্যেকেই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে খুশকিতে আক্রান্ত হন। খুশকির প্রধান কারণ মাথার ত্বকে এক ধরনের ফাঙ্গাস বা ইস্টজাতীয় জীবাণুর সংক্রমণ। যখন এই সংক্রমণ বেড়ে যায় এবং তেলগ্রন্থি (সেবাসিয়াস গ্রন্থি) থেকে অতিরিক্ত তৈলাক্ত উপাদান নিঃসৃত হয়, তখন খুশকির সমস্যা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে জেনেটিক কারণেও খুশকির ঝুঁকি থাকে।
খুশকির কারণে মাথায় চুলকানি ছাড়াও নিয়মিত চুল পড়তে পারে। এ অবস্থায় অনেক সময় সাধারণ শ্যাম্পু বা তেল ব্যবহার করতে বলা হয়। ফলে সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল বা ফাঙ্গাল সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এর মধ্যে সেবোরিক ডার্মাটাইটিস এবং টিনিয়া ক্যাপাইটিস উল্লেখযোগ্য। সাদা সাদা খুশকি যখন মাথা থেকে ঝরে ঘাড় বা জামাকাপড়ে জমে, তখন তা বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। দৈনন্দিন মেলামেশা, অফিস-আদালতের কাজ, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রেও এ সমস্যা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

খুশকি শুধু মাথার ত্বকে নয়, শরীরের আরও বিভিন্ন স্থানে দেখা দিতে পারে। সাধারণত মাথার ত্বক, মুখমণ্ডল, বুক, চোখের পাপড়ি এবং নাকের দুই পাশেও খুশকি হতে পারে। অনেক সময় চোখের পাতা বা ভ্রুতেও সাদা খুশকির মতো কিছু দেখা যায়। এটি কখনও খুশকি, আবার কখনও ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হতে পারে। যাদের মাথায় খুশকি থাকে, তাদের চোখের পাতা বা ভ্রুতেও খুশকি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত মাথার খুশকি নিয়ন্ত্রণে আনলেই সমস্যার উন্নতি হয়। তবে যদি ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হয়, তখন চোখ লাল হয়ে যাওয়া, জ্বালাপোড়া, পানি পড়া কিংবা চোখের পাতা ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এ ধরনের সমস্যা হলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। যেমন- হালকা গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে চোখ বন্ধ করে দিনে কয়েকবার চোখের পাতা পরিষ্কার করা এবং কিছু সময় গরম সেক দিলে উপকার পাওয়া যায়।

খুশকি প্রতিরোধে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। যাদের খুশকির প্রবণতা বেশি, তারা প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। বাইরে বের হওয়ার সময় ধুলোবালু থেকে রক্ষা পেতে মাথায় স্কার্ফ বা ওড়না ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনতে হবে। মাথার ত্বক সুস্থ রাখতে প্রচুর শাকসবজি খাওয়া প্রয়োজন। চর্বিজাতীয় কিছু খাবারও খুশকি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা খুশকি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ উপায়। চুল অপরিষ্কার থাকলে খুশকি বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেকেই ভেজা অবস্থায় চুল বেঁধে রাখেন, যা ঠিক নয়। চুল ধোয়ার পর ভালোভাবে মুছে নিতে হবে এবং ধীরে ধীরে মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিতে হবে। চুল পরিষ্কার ও পরিপাটি রাখলে খুশকিমুক্ত, ঝরঝরে চুল পাওয়া সম্ভব।

খুশকি দূর করার ক্ষেত্রে কিটোকোনাজলযুক্ত শ্যাম্পু কার্যকর। ব্যবহার করার জন্য প্রথমে চুল ভিজিয়ে শ্যাম্পু লাগিয়ে দুই থেকে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এরপর ভালোভাবে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে সপ্তাহে দুবার ব্যবহার করলে খুশকি অনেকটাই কমে যায়। যাদের নিয়মিত খুশকি হয়, তারা এক থেকে দুই সপ্তাহ প্রতিরোধমূলকভাবে এই শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। এতে দীর্ঘদিন খুশকিমুক্ত থাকা সম্ভব।

লেখক : চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ

চেম্বার : আলোক হেলথ কেয়ার, মিরপুর-পল্লবী শাখা, ঢাকা

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/jpfg
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন