লেবানন, সিরিয়া এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে ইসরায়েলের সীমানা আরও গভীরে বিস্তৃত করার যে আহ্বান দেশটির কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ জানিয়েছেন, তার তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান মানবাধিকার সংস্থা ‘বি-সেলেম’।
সংস্থাটি শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, স্মোট্রিচের এই ঘোষণা ইসরায়েলের বর্তমান কর্মকাণ্ডের প্রকৃত লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গিকে স্পষ্ট করে তুলেছে। বি-সেলেম অভিযোগ করেছে, গাজায় গণহত্যা এবং পশ্চিম তীরে জাতিগত নিধনের মতো ইসরায়েল এখন দক্ষিণ লেবাননেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও দখলের ঘোষণা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলকে যে দায়মুক্তি দিয়ে রেখেছে, তার সুযোগ নিয়েই দেশটি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মৃত্যু ও ধ্বংস ছড়িয়ে দিচ্ছে বলে সংস্থাটি মন্তব্য করেছে।
গত বৃহস্পতিবার অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি ইহুদি বসতি উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে স্মোট্রিচ বিতর্কিত এই বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, গাজায় একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সীমানা বাড়ানো হবে এবং লেবাননের লিটানি নদী পর্যন্ত ইসরায়েলের সীমানা বিস্তৃত করা হবে। একইসঙ্গে সিরিয়ার মাউন্ট হারমন এবং এর আশপাশে একটি বাফার জোন তৈরির পরিকল্পনাও তিনি প্রকাশ করেন।
স্মোট্রিচ আরও স্পষ্টভাবে বলেন, পশ্চিম তীরে বা তাদের ভাষায় ‘জুডিয়া ও সামারিয়া’য় এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে যা একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে। ইসরায়েলি সরকারের নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের সদস্য হিসেবে স্মোট্রিচ অত্যন্ত প্রভাবশালী হলেও তার এই সীমানা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়নি।
স্মোট্রিচের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে হামাস এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, এই ধরনের ঘোষণা গত অক্টোবরে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
এদিকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে স্মোট্রিচ বর্তমানে চাপের মুখে রয়েছেন। জনমত জরিপ অনুযায়ী, চলতি বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে তার দল সংসদ থেকে ছিটকে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মহলে এমন সম্প্রসারণবাদী পদক্ষেপ বড় ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, যা ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে।
