নাসিম রুমি: আম্মাজান-এর পর দীর্ঘ ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে নতুন কোনো সিনেমায় অভিনয় করছেন না দেশীয় চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনম। অভিনয় প্রসঙ্গে বারবারই তিনি বলে এসেছেন ভালো গল্প পেলে, ভালো চরিত্র পেলে তবেই তিনি অভিনয় করবেন। তার দীর্ঘ সময় ও প্রতীক্ষার অবসানও হচ্ছে না। তবে কী সত্যিই আর কোনোদিন নতুন কোনো সিনেমায় শবনমকে দেখা যাবে না? জবাবে শবনম বলেন, ‘আম্মাজান বাংলাদেশে আমার অভিনীত শেষ সিনেমা। এরপর আসলে বহু সিনেমাতে কাজ করার জন্য আমি প্রস্তাব পেয়েছি। কেউ কেউ আমাকে সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধও করেছেন। কিন্তু শেষমেশ গল্প শুনে দেখি তা মৌলিক গল্প ছিল না। বেশকিছু সিনেমার মিশেল ছিল সেসব সিনেমার গল্পে। যে কারণে চুক্তিবদ্ধ হয়েও আমি সিনেমা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, এই দেশের মানুষ একজন নায়িকা হিসেবে আমাকে যে শ্রদ্ধা ভালোবাসেন, তা আমি আর অভিনয় না করলেও জানি সেই শ্রদ্ধা ভালোবাসা থাকবে। কিন্তু আম্মাজানের পর আসলে আমি এমন কোনো ভালো গল্প পাইনি যে গল্পে অভিনয় করে আম্মাজানকে ছাড়িয়ে যেতে পারব। সে জন্য আমি বারবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি এই সিনেমার পরিচালক কাজী হায়াৎ-এর প্রতি। তিনি আমাকে যে চরিত্র দিয়েছিলেন তাতে আমি উজাড় করে অভিনয় করেছি। এখনো আম্মাজানের জন্য যে সাড়া পাই তা সত্যিই বিস্ময়কর। দর্শকের প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা। যদি আর কোনোদিন নতুন কোনো সিনেমাতে অভিনয় নাও করি আমার দুঃখ থাকবে না। আমি একজন নায়িকা কিংবা অভিনেত্রী হিসেবে যেসব সিনেমাতে অভিনয় করেছি তাতেই পরিপূর্ণ আমি। অবশ্যই অতৃপ্তি তো আছেই। তারপরও যা করেছি তাই আমার জন্য অনেক।’
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের মেয়ে শবনম এক সময় পাকিস্তানের বহু সিনেমায় কাজ করেছেন। পেয়েছেন সেই দেশের শ্রেষ্ঠ সম্মাননা ‘নিগার অ্যাওয়ার্ড’ ১০ বারেরও বেশি। তবে বাংলাদেশে তিনি জাতীয়ভাবে কোনো স্বীকৃতি পাননি।
