দাঁতের রঙ পরিবর্তনের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত চা, কফি, ওয়াইন বা কোমল পানীয় পান করা। আর এ কারণে দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দাঁত হলুদ বর্ণ ধারণ করে।
দীর্ঘদিন পান, সুপারি ও তামাক সেবনের কারণে দাঁত বাদামি হয়ে যেতে পারে এবং সিগারেটের ধোঁয়ার প্রভাবে দাঁত ধীরে ধীরে কালো হয়ে যায়। এসব পরিবর্তন সাধারণত অভ্যাসগত কারণে ঘটে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক সমস্যা বা ওষুধের প্রভাবেও দাঁতের রঙ পরিবর্তিত হতে পারে। দীর্ঘদিন পেপটিক আলসার থাকলে পাকস্থলীর অ্যাসিড মুখে উঠে দাঁতের এনামেল ক্ষয় করতে পারে। ফলে দাঁত হলুদ হয়ে যায়।
লিভারের রোগ, যেমন লিভার সিরোসিস বা ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে দাঁতের রঙ সবুজ বা ধূসর আভা ধারণ করতে পারে, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
গর্ভাবস্থায় বা শিশু অবস্থায় টেট্রাসাইক্লিন বা ডক্সিসাইক্লিন জাতীয় ওষুধ সেবনের ফলে দাঁতের গঠন ও রঙ স্থায়ীভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। খেলাধুলা, মারামারি বা দুর্ঘটনাজনিত আঘাতে দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হলে এবং সময়মতো চিকিৎসা না নিলে দাঁত ধীরে ধীরে নিষ্প্রাণ হয়ে বাদামি বর্ণ ধারণ করতে পারে।
এছাড়া কেমোথেরাপি গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রেও দাঁতের রঙ পরিবর্তনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অপর্যাপ্ত মুখের পরিচর্যার কারণে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে দাঁতে কালো দাগ বা গর্ত তৈরি হতে পারে।
দাঁতের রঙ পরিবর্তনকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ এটি শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের পরিবর্তন নয়, বরং অনেক সময় অভ্যন্তরীণ রোগের লক্ষণ হতে পারে। সময়মতো দাঁতের চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে দাঁতের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। যেমনÑ স্কেলিং ও পলিশিং, ব্লিচিং, রেস্টোরেশন বা ভিনিয়ার। এসব আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে দাঁতের রঙ ও সৌন্দর্য অনেকাংশে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। তাই নিয়মিত দাঁতের যত্ন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ মেনে চললে দাঁত সুস্থ ও সুন্দর রাখা সম্ভব।
লেখক : ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন
চেম্বার : আলোক ডেন্টাল কেয়ার ইউনিট, মিরপুর-১০, ঢাকা
