ত্বকে কালচে ভাব বা দাগ দেখা দিলে অনেকেই সেটিকে শুধু রোদে পোড়া সমস্যা বলে মনে করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বক কালো হওয়ার পেছনে শুধু সূর্যের আলো নয়, শরীরের ভেতরের নানা পরিবর্তনও দায়ী হতে পারে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, পুষ্টির ঘাটতি, চর্মরোগ এমনকি জীবনযাপনের কিছু অভ্যাসও ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমিয়ে দিতে পারে। ত্বকের রঙ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে মেলানিন নামের একটি উপাদান। শরীরে মেলানিনের পরিমাণ বেড়ে গেলে ত্বক ধীরে ধীরে কালচে হয়ে ওঠে। তবে এই পরিবর্তনের পেছনে কী কী কারণ কাজ করে, তা জানা জরুরি।
১. অতিরিক্ত মেলানিন উৎপাদন
ত্বকের রঙ মূলত নির্ভর করে মেলানিনের ওপর। শরীরে কোনো কারণে মেলানিন বেশি তৈরি হলে ত্বকে কালচে ভাব দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় রোদে থাকা, হরমোনের পরিবর্তন বা ত্বকের প্রদাহের কারণে এমনটি হতে পারে।
২. সূর্যের ক্ষতিকারক ইউভি রশ্মি
বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বক কালো হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো সূর্যের অতিবেগুনি বা ইউভি রশ্মি। দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে ত্বক নিজেকে রক্ষা করতে অতিরিক্ত মেলানিন তৈরি করে। ফলে ত্বক ধীরে ধীরে ট্যান বা কালচে হয়ে যায়। সানস্ক্রিন ব্যবহার না করলে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
৩. ভিটামিনের ঘাটতি
শরীরে ভিটামিন A, B12, C ও E-এর ঘাটতি থাকলে ত্বক নিষ্প্রভ ও ম্লান হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ভিটামিন C ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুষ্টিকর খাবারের অভাব ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করতে পারে।
৪. হরমোনের পরিবর্তন
গর্ভাবস্থা, থাইরয়েডের সমস্যা বা জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ ব্যবহারের কারণে শরীরে হরমোনের পরিবর্তন হতে পারে। এর প্রভাব ত্বকে পড়ে এবং মুখে বা শরীরের বিভিন্ন অংশে কালো দাগ তৈরি হতে পারে। অনেক নারীর ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় ‘মেলাজমা’ নামের এক ধরনের কালচে দাগ দেখা যায়।
৫. চর্মরোগ ও অ্যালার্জি
কিছু চর্মরোগ যেমন একজিমা, লিচেন সিমপ্লেক্স ক্রনিকাস বা ফাঙ্গাল ইনফেকশনের কারণে ত্বক কালো হয়ে যেতে পারে। ত্বকে দীর্ঘদিন চুলকানি বা প্রদাহ থাকলেও দাগ তৈরি হয়। ভুল প্রসাধনী ব্যবহারের কারণেও ত্বকে অ্যালার্জি হয়ে কালচে ছাপ পড়তে পারে।
৬. লিভারের সমস্যা
চিকিৎসকদের মতে, লিভারের কার্যকারিতায় সমস্যা দেখা দিলে তার প্রভাব ত্বকে পড়তে পারে। অনেক সময় শরীরে বিষাক্ত পদার্থ জমে গিয়ে ত্বক নিস্তেজ ও কালচে হয়ে যায়। তাই ত্বকের অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি।
৭. জিনগত প্রভাব
ত্বকের রঙ অনেকাংশেই জিনগত বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভরশীল। বাবা-মায়ের ত্বকের রঙ, মেলানিনের মাত্রা ও জেনেটিক বৈশিষ্ট্য সন্তানের ত্বকের ধরন নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
ত্বক ভালো রাখতে যা করবেন
১. বাইরে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন
২. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
৩. ফলমূল ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার খান
৪. ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রসাধনী ব্যবহার করুন
৫. দীর্ঘদিন দাগ বা কালচে ভাব থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
ত্বকের যত্নে শুধু বাহ্যিক পরিচর্যা নয়, শরীরের ভেতরের সুস্থতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
