২০২৬ বিশ্বকাপের দামামা যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, ফুটবল বিশ্বের চিরকালীন আলোচনার কেন্দ্রে আবারও সেই দুই মহাতারকা, লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ক্যারিয়ারের একেবারে শেষ লগ্নে এসেও এই দুই কিংবদন্তি যেভাবে পাল্লা দিয়ে লড়ছেন, তাকে অনেকেই ‘লাস্ট ডান্স’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
চলতি ২০২৬ ক্যালেন্ডার বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুই ধ্রুবতারা ভিন্ন দুই মহাদেশে খেললেও গোলের নেশায় তারা এখনও সমান অপ্রতিরোধ্য। সৌদি প্রো লিগে আল-নাসরের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো, অন্যদিকে ইন্টার মায়ামির হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এমএলএসে জাদু দেখাচ্ছেন লিওনেল মেসি।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত মাঠে নামার পরিসংখ্যানে মেসিকে কিছুটা পেছনে ফেলেছেন রোনালদো। পর্তুগিজ সুপারস্টার ১৯ ম্যাচে ১৪টি গোল করে গোলের দিক থেকে এগিয়ে আছেন। এর বিপরীতে ইন্টার মায়ামির হয়ে ১৫ ম্যাচে ১১টি গোল করেছেন মেসি। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের বাইরে দলীয় সাফল্যের পথে আল-নাসর কিছুটা হোঁচট খেলেও রোনালদো ভক্তদের জন্য খুশির খবর হলো, দলটি এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর ফাইনালে পৌঁছেছে। সেখানে শিরোপার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ জাপানের গাম্বা ওসাকা।
অন্যদিকে গত মৌসুমে ইন্টার মায়ামিকে এমএলএস কাপ জেতানোর পর এ বছর মেসির শুরুটা হয়েছে অনেকটা বিশ্রামের আমেজ নিয়ে। শুরুতে টানা ১৩ ম্যাচ কোনো অ্যাসিস্ট করতে না পারলেও সময় গড়ানোর সাথে সাথে নিজের প্লে-মেকিং সামর্থ্য দিয়ে আবার সেই খরা কাটিয়ে উঠেছেন আর্জেন্টাইন জাদুকর।
রোনালদোর লক্ষ্য এখন ক্যারিয়ারে এক হাজার গোলের মাইলফলক ছোঁয়া, যা ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপন করবে। তবে গোলসংখ্যায় রোনালদো এগিয়ে থাকলেও মিনিটের হিসেবে গোল বা অ্যাসিস্টের অবদানে এখনও মেসি কিছুটা দক্ষ প্রমাণিত হচ্ছেন।
বর্তমানে সৌদি লিগের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সাবেক ব্রেন্টফোর্ড স্ট্রাইকার ইভান টোনির সাথে রোনালদোর এক তীব্র লড়াই চলছে। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের এই পরিসংখ্যান জানান দিচ্ছে যে, কাতার বিশ্বকাপের তিক্ততা ভুলে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠেয় আগামী বিশ্বকাপে নিজেদের শেষবারের মতো রাঙিয়ে দিতে দুজনেই প্রস্তুত। কে সেরা, সেই পুরনো তর্কের সমাধান হয়তো অদূর ভবিষ্যতে ফুটবল ভক্তরা মাঠের লড়াইয়েই খুঁজে পাবেন।
