লক্ষ্মীপুরে বিয়ে বাড়িতে খাওয়ার টেবিলে বসা নিয়ে বরপক্ষের সঙ্গে কনেপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৫ এপ্রি) দুপুরে সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড় বাড়ির পাশে মো. হারুনের বাড়িত এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন ইব্রাহিম খলিল, মো. অনিক, মেহেদী হাসান আনন্দ, মো. রানা, মো. ইয়ামিন, মো. সামজিদ ও মো. শা আলমসহ অন্তত ৮ জন। তারা লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
দু’পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) হারুনের ছেলে ফারুক হোসেনের সঙ্গে ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের মেয়ে ছামিয়া আক্তারের বিয়ে হয়। শনিবার বরপক্ষের বাড়িতে খাবারের আয়োজন ছিল। কনেপক্ষের লোকজন দুপুরে বরের বাড়িতে আসে। এসময় খাওয়ার টেবিলে বসার ব্যবস্থা নিয়ে দু’পক্ষের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এর জের ধরেই তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
কনেপক্ষের লোকজন অভিযোগ করেন, খেতে বসার সময় বরপক্ষের কিছু লোক চেয়ার ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। এতে কনেপক্ষের লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা কি আল্লাহর উছিলায় খেতে আসছি’? এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠে। পরে তাদের (বরপক্ষ) লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে কনেপক্ষের ওপর হামলা চালায়। এসময় মাইক্রোবাসও ভাঙচুর করা হয়।
ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, ‘খাওয়ার টেবিলে বসতে গেলে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যেই মারামারি শুরু হয়।’
তবে এ ব্যাপারে বরপক্ষের কেউই কোন কথা বলতে রাজি হয়নি। এজন্য তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জয়দেব নন্দী জানান, আহত অবস্থায় ৬ জন চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহিন বলেন, ‘খবর পেয়ে হাসতাপাল ও পরে ঘটনাস্থল গিয়েছি। দুইপক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
