একবার সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি নন, বলিউডের অনেক নায়িকাকেই জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে এই ধরনের কাজ করতে হয়। কেরিয়ার বাঁচাতে বাধ্য হয়ে এসব করেন তাঁরা।পুলিশ সূত্রে খবর, খদ্দের সেজে দালাল বালুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে শ্বেতার খোঁজ মেলে। জানা যায়, যুবতী অভিনেত্রীর যৌনসঙ্গ পেতে হলে খরচ করতে হবে মোটা টাকা। গোপন ক্যামেরায় তোলা ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, খদ্দেরের থেকে এই বাবদ ৫ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন শ্বেতা। অগ্রিম হিসেবে নেওয়া হয়েছিল এক লক্ষ টাকা। এর মধ্যে বালুর ভাগে ছিল ১৫ হাজার টাকা। বাকি অর্থ অভিনেত্রীর জিম্মায় থাকে।
যথা সময়ে খদ্দের সেজে হোটেলের ঘরে উপস্থিত হয় পুলিশ। শ্বেতা এসে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার এরামঞ্জিল আদালতে তাঁকে হাজির করে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে অভিনেত্রীকে এক সরকারি হোমে রাখা হয়েছে। বালুকে রাখা হয়েছে চার্লাপল্লি জেলে।
বাঙালি মা এবং বিহারি বাবার মেয়ে শ্বেতার জন্ম জামশেদপুরে। পরে তাঁর পরিবার মুম্বইয়ে এসে থিতু হয়। শৈশব থেকেই অভিনয়ের প্রতি তীব্র ঝোঁক ছিল শ্বেতার। মাত্র ১১ বছর বয়সে হিন্দি ছবি ‘মাকড়ি’তে প্রথম অভিনয় করেন তিনি। চুন্নি ও মুন্নির দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৫ সালে ‘ইকবাল’ ও ২০০৬ সালে ‘ডরনা জরুরি হ্যায়’ ছবির সুবাদে বলিউডের স্বীকৃতি পান শ্বেতা। পাশাপাশি টিভি সিরিয়ালেও অভিনয় করেন। তাঁকে দেখা যায় মিঠুন চক্রবর্তী অভিনীত ‘এক নদীর গল্প’ বাংলা ছবিতে। এরপর তেলুগু ছবিতে ডাক পেয়ে হায়দাবাদ পাড়ি দেন শ্বেতা। কিন্তু অভিনয় জীবনের অন্তরালে কবে যে তিনি দেহ বিপণনের দিকে ঝোঁকেন, তা নিয়ে পরিচিতরা সবাই ধন্দে।