English

23.7 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১, ২০২২
- Advertisement -
বাড়ি প্রচ্ছদ

বগুড়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন স্থগিত: ভোটার ও সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ

আইন শৃংখলা অবনতির আশঙ্কায় পত্র দিয়ে বগুড়া সদরের লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের যশোপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদের নির্বাচন স্থগিত করেছেন বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সমর কুমার পাল। নির্বাচন স্থগিত করে দেয়ায় ভোটার ও সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা সদ্য নির্বাচনে জয়ী সভাপতি ও প্রার্থীদের পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের দাবী জানিয়েছেন।

জানা গেছে, বগুড়া সদরের লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের যশোপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের জন্য গত ২৫/৫/২২ইং প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হয় সদর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার জিয়াউর রহমানকে। এতে অভিভাবক. দাতা সদস্যসহ সকল প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ করে সুষ্ঠু ক্যাটাগরিতে নির্বাচন সম্পন্ন করেন।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচন করেন, বিদুপাড়া গ্রামের মৃতঃ সামির উদ্দিন মন্ডলের পুত্র বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও লাহিড়ীপাড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মাফতুন আহম্মেদ। একই পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন, অত্র প্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম মহুরী। গত ২৫ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দাতা, সাধারন অভিভাবক, সংরক্ষিত মহিলা অভিভাবক সদস্য, সাধারণ শিক্ষক প্রতিনিধি সহ জয়ী হয় ৯ জন।

এর মধ্য সভাপতি পদের প্রার্থী মাফতুন আহম্মেদের প্যালেন জয়ী হয়। তারা হলেন, দাতা সদস্য ১. মোঃ গোলজার রহমান, মহিলা অভিভাবক সদস্য ২. মোছাঃ বাবলী বেগম, অভিভাবক সদস্য ৩. মোঃ ফজলুর রহমান, অভিভাবক সদস্য ৪.মোঃ ওমর ফারুক, সাধারণ শিক্ষক প্রতিনিধি, ৫. মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম।

এদিকে নির্বাচন সুষ্টু হলেও সভাপতির পদ নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা গড়ে যায়, বগুড়া সদর উপজেলা কার্যালয়। পরে গত মঙ্গলবার দুপুরে উভয় পক্ষকে ডেকে ইউএনও সমর কুমার পাল আইন শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় সভাপতি পদে নির্বাচন স্থগিত করেন।

এবিষয়ে এলাকার সচেতন অভিভাবক মহল শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে প্রকৃত নির্বাচিত প্যালেনের সভাপতির দায়িত্বভার অর্পণ করার জন্য বগুড়া জেলা প্রশাসক, জেলা ও উপজেলার শিক্ষা অফিসার সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

অতিরিক্ত টোলরোধে মহাস্থান হাটের রেট তালিকা দৃশ্যমান স্থানে জনগণের জ্ঞাতার্থে টাঙালো প্রশাসন

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান হাটের টোল রেট তালিকা বাজারের দৃশ্যমান স্থানে জনগণের জ্ঞাতার্থে প্রশাসন কর্তৃক টাঙানো হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় শিবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) ভূমি আজাহার আলী মহাস্থান হাটের সরেজমিনে এসে সরকারি অনুমোদিত টোল রেট এর তালিকা বাজারের দৃশ্যমান ৫টি স্থানে জনগণের জ্ঞাতার্থে টাঙিয়ে দেন। সহকারী কমিশনার ভূমি আহাজার আলী বলেন, মহাস্থান হাটের মূল্য তালিকা টাঙানো হলো, নির্ধারিত রেটের বাহিরে কেউ অতিরিক্ত টোল আদায় করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ রিজু, রায়নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফি।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ রিজু বলেন, উত্তরবঙ্গের বৃহত্ত প্রসিদ্ধ সবজির বাজার হিসেবে খ্যাত বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানহাট। উপজেলার এ হাটে প্রতিদিন হাজার হাজার কৃষক ও গৃহস্থরা তাদের গরু-ছাগল ও উৎপাদিত খাদ্যশষ্যসহ বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করতে গিয়ে সরকার নির্ধারিত টোল মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ গচ্ছা দিতে হতো।

এতে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হাটের ক্রেতা-বিক্রেতারা এবং মাত্রাতিরিক্ত টোল আদায়কারী কর্মীদের অসদাচরণের শিকার হয়ে হাট বিমুখ হচ্ছেন সাধারণ হাটুরেরা।

এর আগে হাটের প্রথম কার্য দিবসে উক্ত হাটের সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত টোল ও বিক্রেতাদের নিকট থেকে টোল আদায় করতে মহাস্থান হযরত শাহ সুলতান বণিক সমিতির পক্ষ থেকে নিষেধ করলে হাট ইজারাদার সংশ্লিষ্টদের সাথে বিবাদ সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত সেটি মামলায় গড়ে। মহাস্থানহাট কে কেন্দ্র করে এখানে হাজার হাজার মানুষের কর্মস্থান। মাত্রাতিক্ত টোলের নামে হাট নষ্ট করা হচ্ছে। এই হাট রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফি বলেন, মহাস্থানহাটে প্রায় তিনশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মহাস্থানহাটে কোথাও টোল তালিকা প্রদর্শন করা ছিল না। হাটের মূল ইজারাদার হাটকে ৯টি ভাগে বিভক্ত করে নিয়মবহির্ভূত সাবলিজ প্রদান করেছেন। সাবলিজ গ্রহীতারা পৃথক পৃথক ভাবে মালামাল বাজারে টোল আদায়ের জন্য বিভিন্ন লোক নিয়োগ দিয়েছেন। তারা সরকারি নীতিমালা বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ না করে নিজেদের মনগড়া হারে টোল আদায় করে চলেছেন।

শুধু তাই নয়, হাট-বাজার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব ইজারাদারদের থাকলেও সেদিকেও অবহেলা।। ভুক্তভোগী কৃষক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ভিত্তিতে আজ মহাস্থান হাটে সরকারি রেটে টোল আদায়ের তালিকা স্থাপন করা হলো। এরপরেও সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে টোল আদায় করা হলে অনিয়ম সহ্য করা হবে না বরং কঠোর হস্তে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ইউপি চেয়ারম্যান শফি তার বক্তব্যে যোগ করেন। একই ভাবে বক্তব্য প্রদান করেন, ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন লালু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম।

এসময উপস্থিত ছিলেন, ইউপি সদস্য বেলাল মন্ডল, মহসিন আলী, ফারুক হোসেন, মহাস্থান বণিক সমিতির সংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, মোশাররফ হোসেন সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী মহল।

প্রি-পেইড বিদ্যুতের মিটার বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ নেকসোকে আলটিমেটাম

বগুড়ার মহাস্থানে বিদ্যুতের ডিজিটাল প্রি-পেইড মিটার বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ বিষয়ে মহাস্থান নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো) কার্যালয়ে স্মারক লিপিও দিয়েছে তারা।

সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী মহাস্থানের প্রধান বাজার সড়কে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে হাজারো ভুক্তভোগী নারী-পুরুষ অংশ নেয়।

মানববন্ধন থেকে আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে মহাস্থানগড় এলাকার সকল প্রি-পেইড মিটার খুলে নিয়ে পূর্বের মিটার প্রতিস্থাপনের দাবি জানানো হয়।

বর্তমান প্রি-পেইড মিটার স্থাপনকারী সংস্থা নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো)। সাধারণ বৈদ্যুতিক মিটার ছেড়ে প্রি-পেইড মিটারে আসতে চটকদার অফার দিয়ে দুর্বৃত্ত শুরু করেছে। টাকা শেষ হলে আবার রিচার্জ করলে সেটিও নিমিষেই শেষ। এই মিটার চান না মহাস্থানের সাধারণ মানুষ।

তারা বলছে, করোনাকালে এমনিতেই মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা নড়বড়ে। এ অবস্থায় প্রি-পেইড মিটারে প্রতিনিয়ত খরচ বহন করা মানুষের জন্য কষ্টকর। মানববন্ধন থেকে বক্তারা বলেন, বর্তমান অগ্নিমূল্যে বাজারে যেখানে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, সেখানে টাকা খেকো জাদুর প্রি-পেইড মিটারে বিদ্যুৎ স্থাপন করে দিয়ে মানুষের হাতে ভিক্ষার ঝুলি তুলে দেওয়া ছাড়া কিছুই নয়।
এর কারণে মানুষ আর্থিক এবং মানসিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। এই মিটার নিয়ে দিন দিন সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বাড়ছে। প্রি-পেইড মিটার চালুর সুফল হলো গ্রাহক ভোগান্তি ছাড়া কিছুই নয়। এতে আরও বলা হয়, প্রি-পেইড মিটারের কারণে মহাস্থানগড় গ্রাহকদের সীমাহীন দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নেসকো অফিস ঘেরাও করে মহাস্থান- শিবগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন। একপর্যায়ে পুলিশ এসে তাদের শান্ত করে সড়কে যানবাহন চলাচলে স্বাভাবিক করেন।

এরপর প্রি-পেইড মিটার বাতিল কার্যক্রমের দাবিতে নেসকোকে ৭দিনের আল্টিমেটাম দেয়া হয়। এর মধ্যে বিষয়টি আমলে না নিলে দাবির প্রতিফলন না হলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, রায়নগর ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বেলাল মন্ডল, সমাজ সেবক আবু বক্কর সিদ্দিক, ফুল মিয়া, জিয়াউর রহমান জিয়া, খাইরুল ইসলাম পলাশ, মামুর রশীদ মামুন, পলাশ হোসেন প্রমূখ৷

গোবিন্দগঞ্জে বাস ও পিকআপের মুখোমুখী সংঘর্ষ: মৎস্য ব্যসায়ী নিহত

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস ও মাছবাহী পিক-আপের মুখোমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে৷ এঘটনায় বগুড়ার মহাস্থানের মৎস্য ব্যবসায়ী নিরব (২৮) নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ২ জন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জনা যায়, রবিবার (৮মে) দুপুর ১২টার দিকে রংপুর থেকে বগুড়া দিকে আসা হানিফ পরিবহণ নামের ১ যাত্রীবাহী বাস (ঢাকা মেট্রো- ব-১৪-৫৯৮২) এর সাথে বগুড়ার মহাস্থান থেকে মাছবাহী পিক-আপ রংপুর যাওয়ার পথে উপজেলার কালিতলা গুপিনাথপুর এলাকায় মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়।

এতে পিকআপের এক পাশের ডালা খুলে ২ মাছ ব্যবসায়ী ছিটকে রাস্তায় পড়ে যায়। এ সময় মাছ ব্যবসায়ী নিরব ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। নিহত নিরব বগুড়া সদরের লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের উত্তর সাতশিমুলিয়া গ্রামের নাসির উদ্দিনের পুত্র।

আহত হয় আরও ২ মাছ ব্যবসায়ী। এরা হলেন, একই এলাকার বাসিন্দা সোনা মিয়ার পুত্র পুটু মিয়া (৩০) ও ওসমান আলীর পুত্র দুলাল মিয়া (৩২)। বিকালে নিহত নিরবের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এলে সেখানে তার স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে ওঠে।

গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরুন্নবী প্রধান ও ফায়ার সার্ভিস ইনচার্জ আরিফ আনোয়ার বিষয়টি নিরাপদ নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে দর্শনার্থীদের ভিড়

ঈদের দিন থেকেই দর্শনার্থীদের পদচারণায় মখরিত বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়। প্রতি শুক্রবার মহাস্থানগড় হযরত শাহ সুলতান বলখী রহঃ এর মাজারে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুসুল্লিরা আসেন মাজার জিয়ারত করতে। তারই সাথে যোগ হয়েছে ঈদের বাড়তি আনন্দ উপভোগ করতে পরিবার-পরিজনদের নিয়ে মহাস্থানগড়ে দর্শনার্থীদের ভিড়৷

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুক্রবার বৃষ্টির কারনে দুপুরে দর্শনার্থীরদের সমাগম কম হলেও বিকালে মহাস্থানগড়ের মানকালি, জিয়ৎকুন্ড ও জাদুঘরের সামনে দর্শনার্থীদের ছিল উপচেপড়া ভিড়। হাজার হাজার দর্শনার্থীরা মহাস্থানগড় জাহাজঘাটি নামক স্থানে ভিড় করছে। বিশেষ করে শুক্রবার জুম্মার নামাজ পরপরই দর্শকদের পদচারণায় মহাস্থানগড় জাদুঘর প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠেছে।

মহাস্থানগড়ে পরিবার নিয়ে আগত গোবিন্দগঞ্জের আব্দুল মালেকের সাথে অনুভূতি জানতে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ২ বছর মহামারী করোনা আমাদের জীবন যাত্রা স্থবির করেছিল। আমরা ভুলে গিয়েছিলাম আনন্দ।

মহামারী করোনার পাশ কাটিয়ে প্রশান্তির ছোয়া পেতে আজ পরিবার পরিজনদের নিয়ে মহাস্থানগড়ে ভ্রমন করতে এসেছি।

বগুড়ার মহাস্থানগড় বলতে সদরের গোকুল মেধ বেহুলার বসরঘর, নরপতির ধাপ বলে পরিচিত ভাসুবিহার ও মহাস্থানগড়। তার মধ্যে অনেকের কাছেই প্রাধান্য হলো মহাস্থানগড় জাদুঘর এলাকা।

যেখানে রয়েছে পশুরামের রাজপ্রাসাদ, জাহাজ ঘাটা, জিয়ৎকুন্ড, শীলাদেবীর ঘাট, গোবিন্দ ভিটা, প্রত্নজাদুঘর, মহাস্থান বন্দর সংলগ্ন হযরত শাহ সুলতান বলখীর (র:) মাজার শরীফ।

শুক্রবার বৈরি আবহাওয়া হলেও পরন্ত বিকালে অপূর্ব মায়াভরা সবুজ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে দর্শনার্থীদেরকে মুগ্ধ করে তুলছে। সবচেয়ে মহাস্থানগড়ের বৈরাগী ভিটা স্থানটি দর্শনার্থীদের কাছে বেশি গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশাখের খড়া মাসে অসহনীয় গরম থাকার কথা হলেও বিকালে ছিল স্বস্তির হাওয়া।

স্থানীয়রা বলছেন, বর্তমানে মহাস্থানগড় জাদুঘর স্থানটি দিন দিন ভ্রমণ পিপাসীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন বিকালে মুক্ত হাওয়ায় আড্ডা দিতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় থাকছে। ঈদসহ বিশেষ বিশেষ দিনে দর্শনার্থীদের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
মহাস্থানগড় দার্শনিক এলাকা যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন করে দর্শনার্থীরা এখানে আসছেন। কেউ পরিবার- পরিজন, কেউ বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজন নিয়ে এখানে বেড়াতে এসেছেন। প্রচীন ইটের বেস্টুনে বসে বিকালে তরুণ তরুণীদের আড্ডা গান বাজনায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

আর এই আনন্দঘন মুহুর্তকে স্মৃতি চারণ করে রাখতে অনেকেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সেলফি তুলতে দেখা যায়। এদিকে জাদুঘরের পাশে করতোয়া নদী সংলগ্ন নতুন মনোরম স্থানে অনেকেই মনের আনন্দে ঘুরছেন ও বসে বসে সময় কাটাচ্ছেন।
মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান রাজিয়া সুলতানা জানান, ঈদের পর থেকে দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি ছিল। শুক্রবার দুপুর থেকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে দর্শার্থী কম। বিকালে একটু একটু বাড়তে থাকে।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বিক পরিস্থিতি ছিল তাদের নিয়ন্ত্রণে বলে যোগ করেন, কাস্টোডিয়ান রাজিয়া সুলতানা।

নিসচা বগুড়া জেলা শাখার প্রয়াত সদস্য জাকিরের পরিবারে ঈদ সামগ্রী-অর্থ প্রদান

নিরাপদ সড়ক চাই বগুড়া জেলা শাখার সদস্য প্রয়াত জাকির হোসেন এর পরিবারে নিরাপদ সড়ক চাই বগুড়া জেলা শাখার পক্ষ থেকে ঈদের নতুন কাপড় ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। সোমবার দুপুর ৩টায় বগুড়ার গাবতলী উপজেলার রামেশ্বপুর ইউনিয়নের জাইগুলি গ্রামে জাকিরের পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী উপকরণ অর্থ হস্তান্তর করেন নিসচা বগুড়া জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। এরপর জাকিরের কবর জিয়ারত করা হয়।

পরিবারে প্রধান উপার্জনক্ষম ছিলেন জাকির। বগুড়া জেলা কমিটির প্রতিশ্রুতি মতে আজ তাদের পরিবারের পাশে দাড়ায় বগুড়া জেলা কমিটি। এ সময় নিহত জাকিরের স্ত্রী শাপলা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার এমন বিপদের দিনে নিরাপদ সড়ক চাই বগুড়া জেলা শাখা পরিবার পাশে থাকায় আমি চির কৃতজ্ঞ। আপনারা সবাই আমার স্বামী ও দুই সন্তানের জন্য দোয়া করবেন।’

জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রকিবুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘নিসচা পরিবারের এক সদস্যের পরিবারে দুঃসময়ে কিছুটা হলেও সহযোগিতা করতে পেরে আমরা খুশি। আশা করছি, এর মাধ্যমে নিসচা পরিবার ও অন্যদের আমাদের প্রতি আস্থা বাড়বে।’ পাশাপাশি কোনও অসুবিধা হলে নিসচা বগুড়া জেলা শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, নিরাপদ সড়ক চাই বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রকিবুল ইসলাম সোহাগ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী শিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক আলআমিন, দপ্তর সম্পাদক জাহিদুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইমরান তালুকদার নিপু, আব্দুল আলিম, কাহালু উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা কমিটির সদস্য জিল্লুর রহমান প্রমূখ।

নিসচাই বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে রোজাদার চালক ও পথচারীদের মাঝে ইফতর বিতারণ

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে রোজাদার চালক ও পথচারীদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার ইফতার পূর্বমূহুর্তে বগুড়া শহরে রাস্তায় চালক ও পথচারী রোজাদাররা গন্তব্যে ফিরতে ব্যস্ততা কাটাচ্ছে।

এসময় রোজাদারদের স্বস্তি দিতে বগুড়ার তেঁতুলতলা এলাকায় জেলার নিসচা এর নেতৃবৃন্দরা ইফতার সামগ্রী তাদের হাতে তুলে দেন।

এসময় নিরাপদ সড়ক চাই বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি রোটাঃ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, “সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে আমরা নিরাপদ সড়ক চাই বগুড়া জেলা শাখার পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নিয়েছি। ইফতারের ঠিক আগের মুহুর্তে আমাদের প্রতিনিধিরা বগুড়া শহরে পথচারী ও চালকদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করছে।

নিসচা বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রকিবুল ইসলাম সোহাগ বলেন, নিসচা জেলা শাখার পক্ষ থেকে প্রায়ই সমাজিক কর্মকান্ডে অসহায় দুস্থ মানুষদের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করি। তারই অংশ হিসেবে আজ বগুড়া শহরে শতাধিক পথচারীদের মাঝে ইফতার সামগ্রী তুলে দিতে পেরেছি।

এ উদ্যোগের জন্য রোজাদারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া ও ভালবাসা পেয়েছি। নিসচা বগুড়া জেলা শাখার এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আলআমিন, দপ্তর সম্পাদক জাহিদুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইমরান তালুকদার নিপু, যুব সম্পাদক নাজমুল হুদা প্রমূখ।

বগুড়ার মহাস্থানে মৌসুমি ফল বাঙ্গি কিনতে ক্রেতাদের ভিড়

বগুড়ার মহাস্থানে মৌসুমি ফল বাঙ্গি কিনতে ক্রেতাদের ভিড়। “এই গেল বাঙ্গি দামে সস্তা”’ হাকডাকে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছিল নাটোর থেকে ট্রাক যোগে বগুড়ার মহাস্থানে হাটে আমদানিকৃত মৌসুমি ফল বাঙ্গি।

ক্রেতারাও দামদর করে কিনছেন। শুক্রবার বিকালে বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানহাটে প্রবেশ করতেই দেখা যায় একটি ট্রাক ঘিরে ক্রেতাদের সমাগম। দূর থেকে মনে হচ্ছিল ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ অর্থাৎ (টিসিবি) পণ্য বিক্রি হচ্ছে এজন্যই ট্রাকের পিছনে ক্রেতার ভিড়। কাছে গিয়ে দেখি তার উল্টো। বিক্রি হচ্ছে মৌসুমি ফল বাঙ্গি।

মৌসুমি ফল ট্রাকে সাজিয়ে রেখে বিক্রি করা হচ্ছে এহাটে। পবিত্র রমজান মাস তাই বাঙ্গির চাহিদা বাড়ার কারণে মূলত এই বাঙ্গি মহাস্থান এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাঙ্গিফল বিক্রেতা আবু তালেব নিরাপদ নিউজ প্রতিনিধিকে বলেন, গরম পড়েছে আর ফলও পাকতে শুরু করেছে। বাজারে যেমন বাঙ্গিফল আসছে, তেমনি ক্রেতাও আছে। তবে দাম একেক জায়গায় একেক রকম।

এদিকে দাম যেমনই হোক নতুন মৌসুমি ফল পরিবারে সবাইকে নিয়ে ইফতার করবেন আবু হোসেন মিয়া। তাই শখ করে বড়টায় কিনলেন ৭০ টাকা দরে। মহাস্থান হাটে পাঁকা বাঙ্গি সরবরাহ করায় ক্রেতা-বিক্রেতা দুই-ই খুশি মৌসুমি ফলের স্বাদ নিতে পেরে। ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

প্রতি পিস বাঙ্গি ১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০ টাকা পিস বিক্রি করা হচ্ছে। অনেকেই দামে সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন।

বগুড়ার শিবগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ: নিহত ১

বগুড়ার শিবগঞ্জের মাঝিহট্ট এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের বিবাদমান সংঘর্ষে ১ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় আহত হয়েছে আরও ৩ জন। রবিবার (১৭এপ্রিল) বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার মাঝিহট্ট ইউনিয়নের খেউনী বিন্যাচাপড় গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে বুলু মিয়া (৪৫) নামের এক ব্যক্তি মাথায় আঘাত পেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত হলে তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকালে তার মৃত্যু হয়। নিহত বুলু মিয়া খেউনী বিন্যাচাপড় গ্রামের আজগর আলীর ছেলে।

আহতরা হলো, খেউনী বিন্যাচাপড় গ্রামের ফজলুর রহমানের পুত্র মাইদুল ইসলাম(৩০), নিহত বুলু মিয়ার পুত্র মিনহাজ (২৫), ও আজগর আলীর পুত্র দুদু মিয়া (৪০)। তাদের প্রত্যেককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, খেউনী বিন্যাচাপড় গ্রামের পাশের খাস জমি দখল নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে একই গ্রামের মজিবর রহমানের পুত্র রঞ্জু মিয়া ও মৃত মতলেবুর রহমান খোকা’র পুত্র হাফিজার সরকারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
ফলে খাস জমি দখলের জন্য রবিবার দুপুরে আধিপত্য বিস্তারে দু’পক্ষের লোকেরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

একপর্যায়ে বুলু মিয়াসহ তাদের গ্রুপের ৪জন আহত হয়। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করালে সেখানে বুলু মিয়ার মৃত্যু হয়।

এবিষয়ে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দীপক কুমার দাস বলেন, মাঝিহট্র এলাকায় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে দুপুরে বুলু মিয়া নামের একজন নিহত হয়েছে। সংবাদ পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ হতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সিএনজিতে বসে মাথা বাহিরে রেখে ফোনে কথা বলার সময় ট্রাকের আঘাতে প্রাণ গেল যুবকের

বগুড়ার মহাস্থানের হাতিবান্ধা নামক স্থানে ট্রাকের আঘাতে প্রাণ গেল সামিউল ইসলাম রকি (১৮) নামের এক কাঠ মিস্ত্রীর।
নিহত রকি বগুড়া সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের রায় মাঝিড়া গ্রামের মন্তেজার রহমানের পুত্র।

প্রতক্ষ্যদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ঐতিহাসিক মহাস্থান হযরত শাহ সুলতান বলখী (রহঃ) মাজার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে আসেন রকি। নামাজ শেষে মহাস্থান মার্কেট থেকে ঈদের কেনাকাটা করে সিএনজি চালিতো অটোরিকশা যোগে বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দেন। বিকাল ৩টায় রংপুর বগুড়া মহাসড়কের শিবগঞ্জ উপজেলার হাতিবান্ধা নামক স্থানে চলন্ত সিএনজিতে বসে ফোনে কথা বলতে থাকেন।

এসময় কথা বলার একপর্যায়ে রকি সিএনজির ভিতর থেকে অসতর্কতা ভাবে মাথা বাহিরে বের করতেই রংপুর গামী একটি অজ্ঞাত নামা ট্রাক ক্ষিপ্রগতিতে এসে রকির মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই রকির মৃত্যু হয়।

রকির মৃত্যুর খবর তার গ্রামের বাড়িতে পৌছিঁলে সেখানে শোকের ছায়া নেমে আসে।

এলাবাসী জানান, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের কাজের ধীরগতি ও রাস্তার বেহাল দশার কারনে উল্লেখ্য এলাকায় প্রতিনিয়তই বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। সেই সাথে প্রাণহানি। তড়িৎ যদি এই রাস্তার কাজ সম্পন্ন না করা হয় তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা লাগামহীন ভাবে বাড়বে বলে সচেতন এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন।